ডেক্স রিপোর্টঃ বিবৃতি– আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় যে, খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলার মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। উক্ত ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়ি পাহাড়ী আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। উক্ত সমাবেশে আইন—শৃঙ্খলা বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালিয়ে উপস্থিত জনগোষ্ঠীকে বেধরক মারধর করে এবং রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে আন্দোলনকারী ব্যক্তিবর্গদের তুলে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাছাড়াও স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে ভয়ভীতির মুখে পড়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত জনগণের উপর এহেন আচরণ মৌলিক অধিকারের পরীপন্থী। অন্যদিকে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করে কিশোরী নির্যাতনের বিচার এড়িয়ে যাওয়ার অপকৌশল নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে পার্বত্য অঞ্চলের জাতি সত্তাভিত্তিক নারী ও কিশোরীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করে এমন যেকোনো পক্ষপাতদুষ্ট বা অন্যায্য আচরণ ও দেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে তা তিনি যেখানেই বসবাস করুন না কেন, যে কোনো জাতিসত্তা বা সম্প্রদায়েরই হোন না কেন। এ ধরনের সহিংসতা সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অবিলম্বে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর উপর হামলা ও নিযার্তন বন্ধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবি জানাচ্ছে। সেই সাথে হামলায় আহত ব্যক্তিবর্গের সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছি। একইসাথে পার্বত্য অঞ্চলের আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার এবং নাগরিক সমাজকে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

