নিজস্ব প্রতিনিধি : আজ ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৩:০০ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা ও নারী ইস্যূতে অগ্রহণযোগ্য বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা; লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা এবং ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস। মানববন্ধন শেষে প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নারীর প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা বন্ধ করো; সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও একসাথে এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করো, করতে হবে ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আসন্ন নির্বাচন কালে বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যারা বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে তা নজিরবিহীন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষথেকে ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রচারণায় নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রচারণায় সহিংসতাকে সূক্ষভাবে ব্যবহার করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। নির্বাচনের আগে এহেন আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি আরো বলেন নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুুরুষের বিভেদ, তাদের চলাফেরা, আচরণ পোশাক নিয়ে মন্তব্যের চেয়ে নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলি অর্জনের দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত, নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব দেয়া উচিত। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ বন্ধে, নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধে নেতৃত্বদানকারীরা কি পদক্ষেপ নিবেন সেটি দেখতে চাই। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হওয়া সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আমরা জানি গত প্রায় দেড় বছরে গণতন্ত্রের লক্ষ্যে দেশবাসী একটি নির্বাচনের জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষা করেছে। এই অপেক্ষা অনিশ্চতায় ভরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে অনিশ্চয়তা, যে সহিংসতা, অস্থিতিশীলতার আংশঙ্কা আছে তা মোকাবিলা করতে আমাদের অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের নির্বাচন কমিশন কতটা আন্তরিক, কতটা দায়বদ্ধ এবং কতটা সক্ষম সেবিষয়ে আমাদের আশঙকা সত্যি প্রমাণ করে দিয়ে আমরা দেখেছি সারাদেশে কিভাবে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে কোন না কোন জায়গায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সমস্ত এলাকায় নির্বাচনের প্রাক্কালে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা আজ এক ভীতিকর অবস্থায় পৌঁছেছে, সেই সাথে ক্রমাগত নারীর প্রতিঅবমাননাকর, অসম্মানজনক এবং অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। ৭১ এর বিরোধী শক্তি পরাক্রমশালী হয়ে আমাদের সামনে, যারা নারীর অর্জনকে মুছে ফেলতে দ্বিধা করছেনা। তারা নারীকে কেবল গৃহবন্দি করা নয়, নারীর অগ্রযাত্রাকে মুছে ফেলার চিন্তা করছে। তারা নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা, নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অগ্রহণযোগ্য এবং অসংবিধানিক বক্তব্য রেখে চলেছে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব চেয়ে নারীকে তারা ভোগের বস্তু হিসেবে দেখে। তারা আবার নারীকে অধ:স্তন করতে চায়। এই নারী বিদ্বেষী গোষ্ঠীর সকল অপকৌশল রুখে দিতে তিনি দেশের নারীসমাজ সহ সকলের প্রতি সতর্ক থাকার জোরালো আহ্বান জানান এবং নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আশা প্রকাশ করেন।
উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা, সংস্কৃতির উপর হামলার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন এখনো প্রতিনিয়ত সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এগুলি কিসের আলামত? স্বাধীনতার ৫৪ বছর কি আবার বর্বর মধ্যযুগে ফিরে যাওয়ার বার্তা দেয়। বক্তারা আরো বলেন দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান থাকলের নারীদের ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে আজ, যা নারীসমাজ কখনোই মেনে নিবে না। আমরা নারী, আমাদের মেনে নিতে হবে, এটি আজ অভিঘাতের মত হয়ে দাড়িয়েছে। নারী কেবল নারী নয়, তারা কিন্ত দেশের নাগরিক। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের উপর নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্যাতন বন্ধে, নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণ কে প্রতিহত করতে সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘুরে দাড়াতে হবে।
উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার, ঢাকা ওয়াইডব্লিউ সিএ, গ্রীণভয়েজ বহ্নিশিখার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী।

