রুপসীবাংলা ৭১ঃ একের পর এক হত্যাকান্ড, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বাড়ী-ঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, জমি ও মন্দির দখল, জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুত করণ, সকল ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য দুরীকরণ ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
অদ্য ১৭/০১/২০২৬ ইং রোজ শনিবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সম্মুখে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটি এর উদ্যোগে বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটি জোটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. জে.কে. পাল মহোদয়ের সভাপতিত্বে এবং জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় এর সঞ্চালনায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অন্যতম আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাড. দীনবন্ধু রায় ও মহাসচিব অ্যাড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, হিন্দু ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী শংকর চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোটের আপীল বিভাগের আইনজীবী প্রহ্লাদ দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জিতেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, আইনজীবী তপন চক্রবর্তী, সুজন কুমার দাস, মানিক দাস, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী উজ্জল প্রসাদ কানু, অ্যাড. শম্পা বণিক, অ্যাড. চৈতালী চক্রবর্তী, অ্যাড. গৌরাঙ্গ লাল মন্ডল, একাত্মতা প্রকাশ করেন সাবাস বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান নিউটন অধিকারী, বাংলাদেশ সম্বিলিত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ আচার্য, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র সাজন মিস্ত্রী বাংলাদেশ ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রানতোষ তালুকদার,এছাড়াও সহকারী আইনজীবী অনন্ত রায়, সুমা বড়াল, শান্ত কুমার সাহা প্রমূখ।
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাগণ বাংলাদেশে চলমান সংহিংসতা ও অরাজকতা বন্ধের জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট জোর দাবী জানায়। বক্তাগণ চলমান সংকট সমাধানে ০৫ (পাঁচ) দফা দাবী পেশ করেন-
(১) সম্প্রতি সকল হত্যাকান্ডের ঘটনা জুডিসিয়াল তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী এবং হত্যাকান্ড ও সহিংসতার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান;
(২) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার কার্য পরিচালনা মাধ্যমে সকল অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করণ;
(৩) বৈষম্য দূর করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যানুপাতিক হারে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ইতিমধ্যে জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে পুনরায় চাকুরীতে পুনঃর্বহাল করণ;
(৪) ধর্মীয় অনুভূতির অযুহাতে বাড়ী-ঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা সকল মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানকল্পে নির্বাচনের প্রার্থীর ভোট প্রচারণার দিন থেকে নির্বাচন পরবর্তী নূন্যতম ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন;
(৫) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সহ সকল কারাবন্দীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবী জানায়।
উক্ত সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন- দেশে যেভাবে একের পর এক হত্যাকান্ড শুরু হয়েছে, যার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই অরাজকতার অবস্থার পরিবর্তন না হইলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হইবে।
বাংলাদেশ মাইনোরিটি ল’ইয়ার্স ইউনিটি জোটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. জে.কে. পাল মহোদয় বলেন- দেশে আজ আইনের শাসন আছে বলে মনে হয় না, দেশে একের পর এক হত্যাকান্ড, ধর্মীয় অজুহাতে বাড়ী-ঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, জমি ও মন্দির দখল, জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুত করণ, সকল ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেলেও রাষ্ট্র নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে যা খুবই হতাশাজনক। এই বিষয়ে আশু সমাধানকল্পে তিনি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

