রুপসীবাংলা৭১ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলজুড়ে এমন কিছু অদ্ভুত পাথুরে কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেগুলো দেখতে সাধারণ শিলার মতো হলেও আসলে পুরোপুরি জীবিত। এসব গঠনকে বলা হয় ‘মাইক্রোবায়ালাইট’। অসংখ্য ক্ষুদ্র অণুজীবের সমষ্টিতে তৈরি এই কাঠামো পৃথিবীর প্রাচীনতম বাস্তুতন্ত্রগুলোর একেবারে কাছাকাছি বলে মনে করা হয়।
বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় এই মাইক্রোবায়ালাইটগুলো বিজ্ঞানীদের আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সক্রিয়, দ্রুত বর্ধনশীল এবং পরিবেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণে সক্ষম।
‘বিগেলো ল্যাবরেটরি ফর ওশান সায়েন্সেস’ ও ‘রোডস ইউনিভার্সিটি’র গবেষকদের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মাইক্রোবায়ালাইট শুধু প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকছে না, বরং দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শোষিত কার্বনকে শক্ত পাথরে স্থায়ীভাবে জমা করছে।
গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, অণুজীবগুলো পানি থেকে দ্রবীভূত কার্বন শোষণ করে তা ক্যালসিয়াম কার্বোনেটে রূপান্তরিত করে। এই খনিজ উপাদানই চুনাপাথর ও প্রবাল প্রাচীরের মূল উপাদান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় স্তরে স্তরে পাথরের মতো কাঠামো গড়ে ওঠে, যা হাজার থেকে কোটি বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া মাইক্রোবায়ালাইট পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রাচীনতম প্রমাণগুলোর একটি, যার বয়স প্রায় ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি। এতদিন ধারণা ছিল, বর্তমানে জীবিত মাইক্রোবায়ালাইট খুব ধীরগতিতে বেড়ে ওঠে। তবে নতুন এই গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের চারটি সক্রিয় মাইক্রোবায়ালাইট ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এসব ‘জীবন্ত পাথর’ প্রতি বছর প্রায় দুই ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বায় বাড়তে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও বিগেলো ল্যাবরেটরির সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট র্যাচেল সিপলার বলেন, পাঠ্যবইয়ে এসব গঠনকে প্রায় বিলুপ্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমরা এমন অণুজীব গোষ্ঠী পেয়েছি, যারা অত্যন্ত প্রতিকূল ও পরিবর্তনশীল পরিবেশেও দ্রুত বেড়ে উঠছে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, এসব মাইক্রোবায়ালাইট গড়ে ওঠে এমন এলাকায়, যেখানে উপকূলীয় বালিয়াড়ি থেকে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ পানি চুইয়ে বের হয়। এই পরিবেশ কখনো রোদে শুকিয়ে যায়, আবার কখনো পানিতে ডুবে থাকে। তাপমাত্রা, সূর্যালোক ও পানির রাসায়নিক গঠনের চরম পরিবর্তনের মধ্যেও অণুজীবগুলো টিকে থাকতে সক্ষম।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, এসব মাইক্রোবায়ালাইট দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কার্বন শোষণ করে। দিনের বেলায় সূর্যালোক ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। গবেষকদের মতে, রাতেও সূর্যালোক না থাকলেও বিকল্প রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় একই হারে কার্বন শোষণ চালিয়ে যায় এরা।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বর্গমিটার মাইক্রোবায়ালাইট প্রতি বছর প্রায় ৯ থেকে ১৬ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। একটি টেনিস কোর্টের সমান আয়তনের মাইক্রোবায়ালাইট এলাকা বছরে কয়েক একর বনভূমির সমান কার্বন ধরে রাখতে সক্ষম।
সূত্র: phys.org
রুপসীবাংলা৭১/এআর

