রুপসীবাংলা৭১ অন্যান্য ডেস্ক : একবার খুব কনকনে ঠাণ্ডা পড়েছিল। একটা কুকুরছানা শীতে খুব কাঁপছিল আর ‘ঘ্যাওয়াও ঘ্যাওয়াও’ করে কাঁদছিল। কুকুররা তো মানুষের মতো অতশত বোঝে না। আর মানুষের মতো ওদের কম্বল নেই, লেপ নেই, কাঁথা নেই, নেই জ্যাকেটও। মানুষরা খেতে দিলে ওরা খায়, পরতে দিলে পরে।
আমরা যেমন বিপদে পড়লে মাকে ডাকি, বাবাকে ডাকি, বিধাতাকে ডাকি; কুকুর বিপদে পড়লে মনে হয় মানুষকে ডাকে। তাই মা কুকুরটা ছানার কষ্টে চিন্তিত হয়ে মনে মনে বলল, ‘যদি একটা মানুষ আসত, তাহলে সে আমার ছানাকে একটা কম্বল দিত।’
ঠিক তখনই সেখান দিয়ে একটা লোক ব্যাঙ ধরতে যাচ্ছিল। লোকটা কুকুরছানার ঘ্যানঘ্যান কান্নায় রেগে গিয়ে তাকে মারল এক লাথি। ছানাটি সেই লাথির ধাক্কায় পাশের ঝোপের মধ্যে পড়ে গেল আর ব্যথায় ‘খ্যাঁক’ করে উঠে আরো জোরে ‘ঘ্যাওয়াও ঘ্যাওয়াও’ করে কাঁদতে লাগল।
এসব দেখে মা কুকুরটা ভাবতে লাগল, ‘এ তো মানুষ নয়, মানুষের মতো দেখতে অন্য কোনো জন্তু হবে। মানুষ হলে আমার ছানাকে মারত না।’মা কুকুরটা তখন ছানার কষ্টে আরো চিন্তিত হয়ে পড়ল। ভয় পেয়ে ভাবল, ‘হায়, এখন যদি বাঘ আসে! তাহলে ছানাটাকে খেয়ে ফেলবে।’
আর ঠিক তখনই একটা বাঘ ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। বাঘটা দেখে মা কুকুরটা ভয়ে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেল, কিন্তু মনে মনে ছানার জন্য কাঁদতে লাগল। বাঘ করল কী, কুকুরছানার ঘাড় ধরে জঙ্গলের মধ্যে একটা আগুনের পাশে রেখে চলে গেল।আর আগুনের তাপ পেয়ে কুকুরছানাটার গা থেকে শীত চলে গেল। সে আরামে ঘুমিয়ে পড়ল।
মা কুকুরটা লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখল। ছানার আরামে তার আনন্দ হলো। সে তখন ভাবল, ‘আহা! বাঘ মনে করে অন্যায় করেছি, এ-ই তো মানুষ।’ মা কুকুরটা তখন ছানাকে কোলে নিয়ে খুব করে আদর করে বলল, ‘জানো বাছা, মানুষরা সব পারে, তারা পশুপাখিরও রূপ ধরতে পারে। আজ একটা মানুষ বাঘের রূপ ধরে তোমাকে আগুনের পাশে রেখে গেছে, তাই তুমি ভালো আছ।’
রুপসীবাংলা৭১/এআর

