নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাদকের ভয়াল থাবায় গ্রাস করছে উদীয়মান যুবসমাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও সুকৌশলে গ্রেপ্তারের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা। বেপরোয়া এসব মাদকসেবীদের কারণে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চাঁদাবাজি, যার ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
এরই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাদকের চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় পিয়াল হাওলাদার (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাণ্ডারিয়া থানার ধাওয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াবদা (এসসি রায়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত পিয়াল বর্তমানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই লেগেছে।
ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী পিয়াল জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ওয়াবদা এসসি রায় মোড়ের একটি চায়ের দোকানে তিনি চা খাচ্ছিলেন। এ সময় ধাওয়া ইউনিয়নের মিন্টুর ছেলে চিহ্নিত মাদকসেবী এমদাদুল (২৩) কথা বলার অজুহাতে তাঁকে দোকানের পাশে ডেকে নিয়ে যায় এবং তাঁর কাছে চাঁদার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
ঘটনাটির পূর্বে থেকেই সেখানে ওৎ পেতে ছিল মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী রাকিব কাজী (২০, পিতা: জাহাঙ্গীর কাজী) ও রাজু (২০)-সহ আরও ৪-৫ জন যুবক। পিয়াল তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এ সময় মহসীন কাজীর ছেলে মিরাজ কাজী (৩৪) পেছন থেকে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিয়ালের মাথায় কোপ দেয়। পিয়ালের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মহসীন কাজী পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।পুলিশের পক্ষে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।


