স্টাফ রিপোর্টারঃ
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুড়ি গ্রামে চুরির অভিযোগে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দফায় দফায় মারধর করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী শাহিন মাদবরের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকুড়ি গ্রামের মরহুম মোঃ মতলব আলী পাইকের ছেলে সেলিম পাইক (৩৫) গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে মনুয়া যাওয়ার পথে শাহিন মাদবরের প্রকল্পের ম্যানেজার তাকে আটক করেন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে শাহিন মাদবরকে ডেকে আনা হলে তার উপস্থিতিতে আরও কয়েকজন মিলে সেলিমের ওপর নির্যাতন চালায়। এতে সেলিম গুরুতর আহত হন এবং তার একটি পা ভেঙে যায় বলে দাবি পরিবারের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আহত সেলিমকে পরে সৈয়দ বস্তা বেপারী বাজার এলাকায় ফেলে রাখা হয়। তিনি সারাদিন সেখানে পড়ে ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে শাহিন মাদবরের দুটি মাছবাহী টলি গাড়ি আটক করেন। পরে স্থানীয় সাবেক মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক রাজু পাইক একটি সিএনজিযোগে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল-এ পাঠান।
গ্রামবাসীরা জানান, সেলিম গরিব ও অসহায় মানুষ। তিনি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহসহ বিভিন্ন দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তারা বলেন, “সেলিম যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেত অথবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিচার করা যেত। কিন্তু তাকে এভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

