শাহ কামাল সবুজঃ নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ – কালীগঞ্জ হাইওয়ে রাস্তায় গত ১২ জানুয়ারি নিঝুম পল্লী রিসোর্টের পাশে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। লাশ এবং খুনী উভয়ই ছিল শনাকহীন, অজ্ঞাত। গত ১২ জানুয়ারী ত্রিশাল, ময়মনসিংহ থেকে মোঃ লাল মিয়া, পিতা, মনির হোসেন রূপগঞ্জ থানায় তার ভাইয়ের নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন।পরবর্তীতে এটা নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবি আই) তদন্তভার দ্বায়িত্ব নেয়।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে, পিবি আই’র এসআই (নিরস্ত্র) সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন পিবি আর র আভিযানিক টীম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অজ্ঞাত নামা যুবেকর লাশ সনাক্ত পূর্বক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত আসামী আসামী মোঃ রুহুল আমীন (৩৯), পিতা-সিরাজুল ইসলাম, মাতা-রমিজা খাতুন, স্থায়ী সাং-বাগান, থানা-ত্রিশাল, জেলা-ময়মনসিংহ এ/পি সাং-বগারটেক (বাদল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা-গাছা, জেলা-গাজীপুর’কে গত ইং ১৭জানুয়ারি গাজীপুর জেলার গাছা থানাধীন বগারটেক এলাকা হইতে এবং মোঃ বেলাল বিল্লাল হোসেন মানিক মিয়া (৪১) পিতা-মোঃ তাহের আলী, মাতা- মোসাঃ সাহেরা খাতুন, স্থায়ী সাং-চরমছলন্দ, থানা-গফরগাঁও, জেলা- ময়মনসিংহ, গাজিপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন জৈনাবাজার এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে আরো জানা যায়, অত্র মামলার বাদী মোঃ লাল মিয়া, পিতা- মনির উদ্দিন, সাং- বীরামপুর, ভাটিপাড়া, থানা- ত্রিশাল, জেলা- ময়মনসিংহ রুপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে তাহার ভাই ডিসিস্ট আবু রায়হান রিপন (৩৫) গত পহেলা জানুয়ারি, তার ২য় স্ত্রী আখি আক্তারের গাজীপুর এলাকাস্থ ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে অবস্থানকালে গত ১১ জানুয়ারী গভীর রাতে ভিকটিম এর মোবাইলে ফোন আসলে রাত অনুমান ০১:০০ ঘটিকার পর বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে সে আর ফিরে আসে নাই। পরের দিন ১২/০১/২০২৬খ্রিঃ রূপগঞ্জ থানা পুলিশ রুপগঞ্জ থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত পলখান সাকিনস্থ নিঝুম পল্লি রিসোর্ট চত্বরের দক্ষিণ পাশে রূপগঞ্জ হইতে কালীগঞ্জগামী হাইওয়ে রাস্তার উপর থেকে ডিসিস্ট এর লাশ উদ্ধার করে এবং ঐ দিনই বাদী ডিসিস্ট এর লাশ সনাক্ত করে। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় ডিসিস্ট এর ভাই মোঃ লাল মিয়া (৪৮) বাদী হয়ে রুপগঞ্জ থানায় মামলা নং- ৩২, দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই এর সিডিউল ভুক্ত হওয়ায়, পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ডিসিস্ট আবু রায়হান রিপন (৩৫) হত্যাকান্ডের ঘটনাটি পিবিআই এর তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং প্রাপ্ত তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড এবং উক্ত ঘটনায় একাধিক আসামী জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জের আভিযানিক টিমের সহায়তায় ডিসিস্ট আবু রায়হান রিপন (৩৫) হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ রুহুল আমীন (৩৯) কে গত ইং ১৭ জানুয়ারী গাজীপুর জেলার গাছা থানাধীন বগারটেক এলাকা হইতে গেফতার করতঃ জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে আসামি মোঃ বেলাল বিল্লাল হোসেন মানিক মিয়া (৪১) কে গত ১৭:জানুয়ারী গাজিপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন জৈনাবাজার এলাকা হইতে গ্রেফতার করে। এরপর তাদেরকে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ডিসিস্ট আবু রায়হান রিপনকে হত্যার ঘটনায় তাহারা জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে এবং হত্যাকান্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। পিবিআই এর তদন্তকালে আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনায় এবং তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, ডিসিস্ট আবু রায়হান রিপন (৩৫) গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় সহ উক্ত হত্যাকান্ডে সহিত জড়িত অন্যান্য আসামীরা একসাথে পূর্বহতে বিভিন্ন স্থানে দস্যুতা, ডকাতি সহ অন্যান্য অপরাধ মূলক কর্মকান্ড হতে প্রাপ্ত অর্থের ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ডিসিস্ট এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় সহ অন্যান্য আসামীদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় সহ অন্যান্য আসামীরা সু-কৌশলে ডিসিস্ট আবু রায়হান রিপনকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
তদন্তের স্বার্থে সহযোগী অন্যান্য আসামীদের নাম প্রকাশ করা হলো না। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের নামে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও অন্যান্য অপরাধের ১৫/২০টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ বেলাল বিল্লাল হোসেন মানিক মিয়া (৪১) এবং আসামী মোঃ রুহুল আমীন (৩৯) দ্বয়কে অদ্য ১৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী মোঃ বেলাল বিল্লাল হোসেন মানিক মিয়া (৪১) উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে তার সহযোগী অপরাপর আসামীদের নাম উল্লেখ পূর্বক ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইতোপূর্বে মোঃ ইয়াছিন (২৭), পিতা- মোঃ আবু ছালেক, মাতা- মহিমা ( মহিলা খাতুন, স্থায়ী সাং: গ্রাম- খামার দেহুন্দা, উপজেলা/থানা- করিমগঞ্জ, জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার পূর্বক গত ১৫ জানুয়ারী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাপর পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ পিবি আই এডিশনাল আইজি জনাব, মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম)।

