নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রাক্তন কর্মচারীদের ৫% ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড ও ১৭ বছরের বিনিয়োগ মুনাফার বকেয়া ১,৮২২.৯৮ কোটি টাকা পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।
১৯ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল দুইটা জাতীয় প্রেসক্লাবে আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য জানান।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রাক্তন কর্মচারীদের আইনগত প্রাপ্য ৫% ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত) এবং উক্ত ফান্ডের ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের বিনিয়োগ মুনাফার মোট বকেয়া ১,৮২২.৯৮ কোটি টাকা এখনো পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে।
এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন,
- দীর্ঘ ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড নানান অজুহাতে প্রাক্তন কর্মচারীদের আইনগত প্রাপ্য ১,৮২২.৯৮ কোটি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২৩৪ ও ২৪০(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী আমরা ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড এবং উক্ত ফান্ডের বিনিয়োগ মুনাফা পাওয়ার পূর্ণ আইনগত অধিকারী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি এবং এর ফলে আমরা আর্থিক ও মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, - কোম্পানির সাথে চলমান সকল মামলায় গত ১১ বছর ধরে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বিচারিক কার্যক্রমে সহযোগিতা না করে সময় প্রার্থনা ও নানা অজুহাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সময় ক্ষেপণ করছে, যা প্রাক্তন কর্মচারীদের জন্য চরম হয়রানির শামিল।
প্রাক্তন কর্মচারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম শাখার উদ্যোগে ১৭ বছরের প্রাপ্য ফান্ডের বিনিয়োগ মুনাফার বকেয়া বিষয়ে একটি সভা ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ১১:০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। উক্ত সভায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মহাপরিচালকগণ, প্রাক্তন কর্মচারীদের প্রতিনিধি এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও দুঃখজনকভাবে কোম্পানির কোনো প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত হননি, যা তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাবেরই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড শুরু থেকেই একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ও স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সকল শর্ত পূরণ করার পরও ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড ও ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠন না করে কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করেছে।
পরবর্তীতে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৪ সালে (২০১৩ – ১৪ অর্থবছর ভিত্তিতে) উক্ত ফান্ডসমূহ গঠন ও মুনাফা অংশগ্রহণ ঘোষণা করলেও, এর পূর্ববর্তী ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়কালের আইনগত প্রাপ্য অর্থ প্রাক্তন কর্মচারীদের প্রদান করা হয়নি। ফলে ওই সময়ে কর্মরত আবেদনকারীগণ তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত সময়ে ফান্ড গঠন না করায় শ্রমিকদের ৫% নিট মুনাফার অর্থ কোম্পানি নিজস্ব ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২৪০(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম কর্তৃক প্রদত্ত অডিট সার্টিফিকেট অনুসারে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শ্রমিকদের মোট প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৮২২.৯৮ কোটি টাকা, যা ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক প্রাক্তন কর্মচারীদের পরিশোধযোগ্য। প্রাক্তন কর্মচারীরা তাঁদের চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী আনুপাতিক হারে এই অর্থ পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন।
এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে প্রাক্তন কর্মচারীদের ন্যায্য ও আইনসম্মত পাওনা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জান

