নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হোটেল রেস্তোরা ঁসেক্টরে ঘোষিত কর্মবিরতির সমর্থনে সংহতি সমাবেশ করেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ। আজ ৭ জানুয়ারি (বুধবার) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আক্তারুজ্জামান খান এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভুঁইয়া, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রহিমা জামাল, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্ক হেড শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা চালক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক শেখ হানিফ আহবায়ক এবং সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক তফাজ্জল হোসেন।

সংহতি সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন “সরকার ঘোষিত মজুরি, শ্রম আইন এবং সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়ন আপনাদের এই দাবির প্রতি আমি সংহতি জ্ঞাপন করছি। এই দাবির প্রতি এই জন্য সংহতি জানাই যে- এগুলো এতই প্রাথমিক এবং যৎসামান্য দাবি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর পরে, বাংলাদেশ বা বিশ্বে এত উন্নয়নের গল্প হওয়ার পরে এসব দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে এটিই এক অবাক করার ঘটনা। ৮ ঘন্টা কাজ করে বাঁচার মত মজুরি পাওয়া এটার স্বীকৃতি ১৮৮৬ সালে। দাস শ্রমের ব্যাপারটা অনেক আগেই পাড় হয়ে গিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে অনেক খাতের শ্রমিক রয়েছে যারা এখনো আধুনিক শ্রমিক হওয়ার অধিকার পায় নি”। অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, “হোটেল রেস্তোরা সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা যেমন নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র পাচ্ছে না, একই সাথে বিভিন্ন সময়ে তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

২৪ সালে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বিগত সরকারের মত এই সরকার আচরণ করবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই সরকারও বিগত সরকারের মতই আচরণ করছে, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে উদ্যোগ নিচ্ছে না। ৫ মে নিম্নতম মজুরির গেজেট ঘোষণা হলেও অদ্যাবধি তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না”। স্কপ নেতা প্রকাশ দত্ত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বলেন, “ ভেনিজুয়েলা প্রেসিডেন্টকে মার্কিন সৈন্যরা কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছে, এ নিয়ে সারা বিশে^ প্রতিবাদ হচ্ছে। আশা করব হোটেল শ্রমিকরাও এই প্রতিবাদে শামিল হবে। আজকে বাংলাদেশকে আমেরিকার যুদ্ধ পরিকল্পনায় ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সমস্ত শ্রমিক যখন রাস্তায় নামবে তখন ভালুকায় শ্রমিক হত্যা করে পরিচয় দেয়া হচ্ছে হিন্দু শ্রমিক। এইভাবে একদিকে সাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের নামে উগ্রজাতীয়তাবাদের খেলা চলছে।

শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নৌযান শ্রমিক নেতা শাহ আলম ভুঁইয়া বলেন, “নিম্নতম মজুরির গেজেট গত মে মাসে ঘোষণা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না হওয়া এ শিল্পের মালিকদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর। এ শিল্পের মালিকরা এলিট শ্রেণীর লোক হওয়া সত্তে¡ও এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারলেন না। ফলে আমাদের ধরে নিতে হচ্ছে এই মালিকরা মুনাফার বাইরে আর কিছ‚ বুঝেন না”। হোটেল রেস্তোরাঁ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক তফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমাদের ঘোষিত কর্মবিরতির আগ পর্যন্ত আলোচনার দরজা সব সময় খোলা। সরকার বা মালিক পক্ষ যদি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হোন এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেন অবশ্যই শ্রমিকরা বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, কর্মবিরতির কর্মসূচি দেশব্যাপী হোটেল রেস্তোরার জন্য প্রযোজ্য। এ প্রেক্ষিতে কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক স্বপ্রণোদিত হয়ে তার শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাবো। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক যদি শ্রমিকদের উপর ছাটাই নির্যাতন চালান তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শ্রমিকরা প্রয়োজনে ঐ প্রতিষ্ঠানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। তিনি বলেন, আগামিকাল (৮ জানুয়ারী) শ্রম ভবনে সরকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
আলোচনায় সরকার ও মালিক পক্ষ শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা বিবেচনা করতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে আক্তারুজ্জামান খান বলেন, “আমরা আশা করব সরকার উদ্যোগী হয়ে অবিলম্বে মজুরি, শ্রম আইন ও চুক্তি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন”।

