নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আজ ৫ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হল এ সংবাদ সম্মেলন করেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ। হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘন্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জেলা-অঞ্চলে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী কর্মবিরতির কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়। সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আক্তারুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক তফাজ্জল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন সংগ্রাম পরিষদের অপর যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি শাহ আলম ভুইয়া, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন সংগ্রাম পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম ও স্টারগ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, শ্রম আইনের অন্যান্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে মালিকরা শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মালিক ও মালিক সমিতির সাথে বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদিত হয়। বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল শ্রম মন্ত্রণালয়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়। এছাড়াও গত ১৬ জুন ২০১৫ সালে সিলেটে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি, ২ জুলাই ২০১৫ সালে মৌলভীবাজারে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি, ৩০ জুন ২০১৬ সালে যশোরে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি এবং ২৪ অক্টোবর ২০১৯ সালে নেত্রকোণায় ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়। রাজধানীতে অবস্থিত স্টার গ্রুপের শ্রমিকদের সাথে গত ৯ মার্চ ২০২৫ খ্রিঃ স্টার গ্রুপের মালিক পক্ষের সাথে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তি বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট মালিক শ্রমিকদের সাথে বিভিন্ন রকম টালবাহানা করছে। চলতি বছরের ৫ মে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও এখনও পর্যন্ত শ্রমিকরা কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। ফলে সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত কর্মবিরতি পালন করা ছাড়া শ্রমিকদের সামনে আর বিকল্প করণীয় কিছু থাকছে না। কর্মবিরতির কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংহতি সমাবেশ, ৮-১১ জানুয়ারি দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ এবং ১২ জানুয়ারি মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

