রুপসীবাংলা৭১ অন্যান্য ডেস্ক : ইসলামে ইবাদতের মূল্য শুধু বাহ্যিক রূপ বা পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং নিয়ত, সময় ও পরিস্থিতির গুরুত্বের ওপরও তা গভীরভাবে নির্ভরশীল। অনেক সময় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পারিপার্শ্বিক দায়িত্ব, অভাব কিংবা অনিবার্য বাস্তবতা মানুষের ইবাদতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের বিকল্প পথ খুলে দেন; যেন কেউ হতাশ না হয়, কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে না করে। রমাযান মাসে উমরাহ আদায়ের যে অসাধারণ ফযিলত, নিম্নোক্ত হাদিসটি তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا رَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَجَّتِهِ قَالَ لأُمِّ سِنَانٍ الأَنْصَارِيَّةِ مَا مَنَعَكِ مِنْ الْحَجِّ قَالَتْ أَبُو فُلاَنٍ تَعْنِي زَوْجَهَا كَانَ لَهُ نَاضِحَانِ حَجَّ عَلَى أَحَدِهِمَا وَالآخَرُ يَسْقِي أَرْضًا لَنَا قَالَ فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَعِي
ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ হতে ফিরে এসে উম্মে সিনান (রা.) নামের এক আনসারী মহিলাকে বললেন, হজ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, অমুকের আববা অর্থাৎ তাঁর স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দু’টি উট আছে। একটিতে সাওয়ার হয়ে তিনি হজ আদায় করতে গিয়েছেন। আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমাযান মাসে একটি ‘উমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান অথবা বলেছেনঃ আমার সাথে একটি হজ আদায় করার সমান। (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)
অতএব, আসুন আমরা আল্লাহর রহমতের এই সুবর্ণ সুযোগকে অবহেলা না করি। যাদের জন্য ফরজ হজ আদায় করা সম্ভব হয়নি, তারা যেন রমাযানের পবিত্র সময়ে উমরাহ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের নেকির পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করি। আর যাদের সে সামর্থ্যও নেই, তারা যেন অন্তত এই হাদিস থেকে আল্লাহর দয়ার ব্যাপকতা উপলব্ধি করে নিয়ত, ইখলাস ও ইবাদতে যত্নবান হই। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমিন।
রুপসীবাংলা৭১

