নিজস্ব প্রতিনিধি :বর্তমান সময়ে সংঘটিত আমাদের সংস্কৃতি বিরোধী বিভিন্ন ঘটনাসমূহ ও বক্তব্য নারী আন্দোলনকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এই সমস্ত ঘটনা ও বক্তব্যসমূহ সমতাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অন্তরায়।
২০২০ সালে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৮ আগষ্ট সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অর্ন্তভূক্ত করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা -২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন জারির পরে ধর্মভিত্তিক ছয়টি দল সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা শুরু করে সরকারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কোন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক দল বা গোষ্ঠীর সাথে কোনরকম আলাপ আলোচনা, সংলাপ ছাড়াই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে, যা শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, বরং গুটিকয়েক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কাছে সরকারের এটি এক ধরনের নতজানু সিদ্ধান্ত।
আমরা লক্ষ্য করলাম বাংলা একাডেমীর সংগ্রহশালার জন্য দান করা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত সংগ্রহের ২০টি বই বাংলা একাডেমী কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা মনে করি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সংগ্রহের বই কেজি দরে বিক্রি করার মাধ্যমে কেজি দরে বিক্রি করে দেয়া হলো বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা আর স্মৃতিকে। আমরা মনে করি বাংলা একাডেমী প্রশাসনকে এই দায়ভার নিতে হবে এবং লাখ লাখ সন্তানের কাছে তাদের মায়ের স্মৃতিকে অবমাননার জবাব দিতে হবে।
যখন দেশে বিভিন্ন কারণে গার্মেণ্টস শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে, শ্রমজীবী নারীরা চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে, তখন নারীরা গৃহে থাকলে তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে ধর্মীয় রাজনৈতিক দল থেকে, যা সুকৌশলে নারীকে গৃহবন্দী করে রাখার এক ধরনের অপকৌশল।
আমরা জানি যে, আদিবাসীরা আমাদের জনগণ ও সংস্কৃতির একটি অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উপর হামলা বাড়িঘড়ে অগ্নিসংযোগ, তাদেরকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের জমি দখল করার অপচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি।এইসব ঘটনার ব্যাপক প্রচার সহ ্খনি প্রতিহত করা দরকার।
গত ১৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়ত সম্মেলনে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করে তাদের পন্য বর্জন করার আহŸান জানানো হলো।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে ্উপরোক্ত সবগুলি ঘটনা একইসূত্রে গাাঁথা যা সমতাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সমাজ গঠনের পক্ষে অন্তরায়ই শুধু নয়, আমাদের দেশকে একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক রূপ দেবার অপচেষ্টা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী বিরোধী বিভিন্ন প্রচারণা সহ আমাদের সংস্কৃতি বিরোধী যে অপতৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে তা প্রতিরোধে সরকার, প্রশাসন, নারী আন্দোলন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আমার আহ্বান জানাচ্ছে।

