নিজস্ব প্রতিনিধিঘঃ আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে দেশকে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান
চট্টগ্রাম, মোংলাসহ দেশের একাধিক বন্দর ও টার্মিনাল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ এর দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্র্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম. জাহাঙ্গীর হুসাইন। সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্তের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রহিমা জামাল, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খান প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়ে দালাল শেখ হাসিনার সরকারকে হটিয়ে অধিকতর বিশ^স্ত দালাল ড. ইউনুসের অর্ন্তবর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এনে স্বীয় পরিকল্পনা কার্যকরী করে। মার্কিনের সাথে গোপন চুক্তি এনডিএ ও এআরটি স্বাক্ষর করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করে বিএনপি’র নেতৃত্বে জোট সরকারকে ক্ষমতায় আনে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রভু মার্কিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়াল্ডের হাতে তুলে দেওয়া, মার্কিনের সাথে দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন, জ্বালানি চুক্তি, দুই দফায় মার্কিন বিমান কোম্পানি বোয়িংএর ২৫টি বিমান ক্রয় চুক্তি ইত্যাদি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফরাসি রাষ্ট্রদূতের হুমকিতে ইউরোপী বিমান সংস্থা এয়ারবাসের ১০টি বিমান ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করে। একই সাথে মার্কিন প্রতিপক্ষ সা¤্রাজ্যবাদী চীনে প্রথম বিদেশ সফরে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদী চীনের স্বার্থে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর করে এসেছে এবং মোংলা বন্দরের দুই কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্পসারণ বিষয়ে চীনের সাথে চুক্তিসহ বিভিন্নভাবে চীনের সাথেও সম্পর্ক অগ্রসর করে চলেছে। পরস্পর বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী উভয় পক্ষের সাথে ক্ষমতাসীন সরকারের সম্পর্ক ও তৎপরতা দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বৈশ্বিক মন্দাজনিত পরিস্থিতি, যুদ্ধময় অবস্থায় সরবরাহ ব্যবস্থাতে অচলাবস্থা, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও অসম বাণিজ্যে সামগ্রিক অর্থনীতির নি¤œমুখীতায় দেশ-জাতি-জনগণ কঠিন ও ভয়াবহ ভবিষ্যতের সম্মুখীন। অথচ দেশের চরম আর্থিক সংকটের এই সময়ে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে বিভিন্ন ক্রয় চুক্তি করে দেশ ও জনগণের ঘাড়ে ঋণের বোঝা বৃদ্ধি করে চলেছে। মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার পুঁজি ও শক্তির অনুপাতে বাজার পুনর্বন্টন নিয়ে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ বাংলাদেশকে স্ব স্ব পক্ষে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল দেশপ্রেমিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
বাংলাদেশের সকল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি, সংগঠনসহ সচেতন শান্তিকামী মানুষকে দেশের নিষ্পেষিত কোটি কোটি শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির সংগ্রামে যুক্ত হয়ে স্থায়ী শান্তির জন্য এগিয়ে আসা জরুরি কর্তব্য। সেই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের উচ্ছেদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সরকার তথা জাতীয় গণতান্ত্রিক সরকার।


