শিতাংশু গুহ, ২০ অক্টবর ২০২৬, নিউইয়র্ক।।
আমরা যখন পূজায় যাই তখন কিছু পয়সা দিতে মন চায়, কিন্তু কতটা দেয়া যায়? আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব বলে থাকেন তারা ২/৩টি পূজায় যান, কারণ সব জায়গায় চাঁদা দেয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই। কথাটা সত্য। চাঁদা দেয়া কি বাধ্যতামূলক? না, তা নয়, কিন্তু চক্ষুলজ্জ্বা বলে তো একটা কথা আছে? চাঁদা না দিলে পরে এনিয়ে কথা ওঠে, বলা হয়, চাঁদা দেয়না, কিন্তু প্রসাদ তো ঠিকই খায়? একটি মন্দির পলিসি নিয়েছে তারা কারো কাছে চাঁদা চাইবে না, এটি ভাল উদ্যোগ। ফোনে ফোনে চাঁদা তোলা বা বাড়ী বাড়ী গিয়ে চাঁদা তোলা আজকাল কমেছে, তবে বন্ধ হয়নি। পূজা করতে গেলে টাকা লাগবে, এটি সত্য। চাঁদা তো দিতে হবে, এটিও সত্য। কিন্তু এ প্রশ্নও ওঠে যে, মানুষের কাছে টাকা নিয়ে আপনাকে পূজা করতে বলছে কে? দূর্গাপূজা কি লাভজনক ব্যবসা? কারো কারো জন্যে তো বটেই, তবে লোকসান হলে এত পূজা হবার কোন কারণ নেই? এতে কি ধর্মের প্রসার হচ্ছে? আপনি যেকোন পূজায় যান, শুনবেন, অনেক খরচ, দাদা এবার একটু বেশি দিন্। গতবার আমাকে একজন বলেন, দাদা, সেই ১৯৯০ সালে ১শ’ ডলার চাঁদা দিয়েছেন এখনো ১শ’? তাদের কিভাবে বোঝাবো যে, ১৯৯০ সালে ছিলো ১টি পূজা, এখন ২০টি! একটি পূজা কমিটি’র এক নেতা আমাকে দেখলেই বলেন, ‘দাদা, চাঁদা দেয়ার ভয়ে আমাদের পূজায় আসেনা’। কথাটা মিথ্যা নয়?
মন্দিরে দুর্গাপূজা হবে সেটি ঠিক আছে, কিন্তু বিভিন্ন পূজা কমিটি করে যে পূজা এবং প্রতিবছর পূজার সংখ্যা বাড়ছে কেন? হিন্দু বাড়ছে বলে পূজা বাড়তেই হবে? প্রতি পূজার কমিটি থাকে, এই কমিটি’র সদস্যদের চাঁদা দিয়েই পূজা হওয়া উচিত, জনসাধারণের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে নয়, ব্যবসায়ীদের বিজ্ঞাপন নেয়া যেতে পারে। পূজা মন্ডপগুলোতে রশিদ বই নিয়ে টেবিল পেতে বসাটা একেবারে উঠে যাওয়া উচিত। ঢালাও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাটা সীমিত হওয়াটা দরকার। ২০ টাকা চাঁদা দিয়ে খেয়ে আবার বাড়ীতে প্রসাদ নিয়ে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু। আমার ধারণা পূজায় খাওয়া-দাওয়া সীমিত হলে খরচ কমে যাবে, মানুষের ভীড় কমবে। একই কথা কীর্তন বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্যে প্রযোজ্য। প্রসাদ হিসাবে শুধু ফলমূল দিন্, খিচুড়ি দেয়া বন্ধ করুন, দেখুন কত মানুষ আসে? পাঠক, আমি কারো বিরুদ্ধে লিখছি না, এখন সময় এসেছে চিন্তা করার। আমরা কি করছি, কেন করছি? নুতন প্রজন্মের জন্যে এসব করছি? না, নুতন প্রজন্মকে আমরা টানতে পারছি কই? হ্যাঁ, তারা হয়তো স্বল্প সংখ্যক আসছে, মন্দিরগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি কম কেন? আমরা যারা পূজা বা মন্দির কমিটি’র নেতানেত্রী, তাদের ছেলেমেয়েরা অংশ নিচ্ছেনা কেন? নিউইয়র্কে প্রায় কুড়িটি দুর্গাপূজা হয়, এসব কমিটি’র প্রায় সকল নেতার বয়স চল্লিশোর্ধ। নুতন প্রজন্মের একটি পূজাও নেই, এ ব্যর্থতা আমাদের!
আমি প্রায়শ: পূজা কমিটি’র নেতৃবৃন্দকে বলি, আপনারা প্রতি কমিটি প্রতি বছর বাংলাদেশে শুধুমাত্র একটি পরিবারের দায়িত্ব নিন, মাত্র ১হাজার ডলার দিয়ে একটি গরিব পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলুন। কেউ সাড়া দেয়নি। এমনকি আমি দু’টি পূজা কমিটি’র সাথে জড়িত তারাও নন? এটি শুরু হলে শুধুমাত্র নিউইয়র্ক পূজা কমিটিগুলো বছরে ২০টি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে দিতে পারে। ভাবুন, পুরো আমেরিকা বা পুরো বিশ্ব এটি শুরু করলে কি হবে? পূজা কিমিটির নেতারা অনেকেই দেশে মানুষকে সাহায্য করে থাকেন। সমষ্টিগত সহায়তা ব্যক্তিগত সাহায্যের চেয়ে ঢের বেশি ভাল। নিউইয়র্কে প্রায় সকল মন্দিরেই শনিবার অনুষ্ঠান থাকে, এদের অনেক মন্দিরকেই আমি পরামর্শ দেই যে, অনুষ্ঠান শেষ আপনারা ৫মিনিট সময় দেশ ও বিশ্বের কথা ভক্তদের জানান। কেউ কথা রাখেনি। শুধু পরকালের কথা শুনিয়ে লাভ কি, যদি ইহকাল যন্ত্রণার মধ্যে কাটে?
সামাজিক মাধ্যমে ৯ই অক্টবর ২০২৬ দুপুর ১২:২০মিনিটে একটি পোস্টিং দেই যে, এবারের পূজায় শ্লোগান উঠুক, ‘চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই’। ১২ই অক্টবর ২০২৬ রাত ১০টায় দেখলাম তাতে ১২.২ হাজার লাইক পড়েছে, কমেন্ট ১.৭হাজার। অসংখ্য কমেন্টে খুশি হবার কোন কারণ নেই, কারণ বাংলাদেশী একশ্রেণীর মুসলমান ব্যাপকভাবে কমেন্ট করেছেন এবং সেগুলো প্রায় সর্বাংশে নেতিবাচক। সাধারণ এ পোষ্টে এত জঘন্য গালিগালাজ পড়তে পারে তা ভাবা যায়না। অধিকাংশ লাইক হিন্দুদের; সামান্য সংখ্যক মুসলমান লাইক ও ভাল মন্তব্য করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর সমাবেশে কিছু মুসলমান বাংলাদেশী পতাকা গায়ে দাবি করেছে তারা ‘দিদি’র শাসন চায়’ (মমতার)? দিল্লিতে কক্রোচদের বিক্ষোভে বাংলাদেশিদের উৎসাহের কোন কমতি নেই, তারা প্রতিদিন মোদিকে ফেলে দিচ্ছেন। সৌদিতে দুই বাংলাদেশীর হত্যাকান্ড দু:খজনক। একই সময়ে সৌদি আরব নবীকে অবমাননার জন্যে একজন শ্রীলংকান নাগরিকের মৃত্যুদন্ড বাতিল করেছে। এই দু’টি ঘটনা কি বলছে? সামাজিক মাধ্যমে একজন প্রশ্ন করেছেন, সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ড কার্যকর এবং বাংলাদেশে উন্মত্ত জনতা ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে হাজারো কণ্ঠে ‘আল্লাহুআকবার’ বলে পুড়িয়ে মেরেছে, এ দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনটি বেশি বর্বর? guhasb@gmail.com;

