রুপসীবাংলা৭১ আইন-আদালত ডেস্ক : রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার ওরফে বাদশা হত্যা মামলায় গ্রেফতার আদাবর থানা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, লেদু হাসানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই হাফিজুর রহমান। তবে শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শুনানির সময় মামলার বাদী আদালতে একটি হলফনামা দাখিল করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি মামলার প্রকৃত আসামি নন। বাদীর এই বক্তব্য আদালতের নজরে আসার পর রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর না করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮ জুলাই রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে র্যাব-২ লেদু হাসানকে গ্রেফতার করে।
মামলার তদন্তে গ্রেফতার কয়েকজন আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের মূল হামলাকারী পারভেজের কাছে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু হাসান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৯ জুন আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় মজনু ও শহীদ গ্রুপের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ১ জুলাই সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমঝোতা না হওয়ায় সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন আদাবর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবুল বাশার ও সাদ্দাম হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন।
গুরুতর আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আবুল বাশারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম হোসেন এখনো চিকিৎসাধীন।
ঘটনার তিন দিন পর নিহত আবুল বাশারের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে বাঁশি বাজানো নিয়ে প্রথমে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১ জুলাই রাতে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আবুল বাশার ও সাদ্দাম হোসেনের ওপর হামলা চালায়। এতে আবুল বাশার নিহত হন এবং সাদ্দাম গুরুতর আহত হন।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

