রুপসীবাংলা৭১ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বিল সিনেটে অনুমোদন পেয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিলটি পাস করেন সিনেটররা।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনটি এখন নিম্নকক্ষে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী সেটিও পাস হলে, অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে ফ্রান্স।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনানফ বলেন, ‘ইউরোপে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার (ডিজিটাল মেজরিটি) ধারণা বাস্তবায়নের পথ খুলে দিল ফ্রান্স।’ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকর হোক। বিলটি আইনে পরিণত হলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
এ ছাড়া ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে চার মাসের মধ্যে এই বয়সসীমার নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের জন্য ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের সার্বিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে।তাদের দাবি, শিশুদের সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই বয়সসীমাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে সরকার আইন প্রণয়ন করলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় পুরো ইউরোপজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফলে ফ্রান্সের আইনটি ইউরোপীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও কমিশন পর্যালোচনা করবে।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

