রুপসীবাংলা৭১ প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করেন।
বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় চসিকের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা। বর্তমানে তা কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আয়কর, ভ্যাট, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক ও ভবিষ্যৎ তহবিলের বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। চসিককে সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত করাই তার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করা হচ্ছে। অনলাইনে কর পরিশোধের সুযোগ চালু করা হবে। পাশাপাশি বন্দর, রেলওয়ে, কন্টেইনার টার্মিনাল, তেল কোম্পানিসহ বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায্য কর পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের কারণে চসিকের সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রতিবছর ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে।
বাজেটে নগর উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মেয়র জানান, প্রায় ১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকার সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭৬৯ কিলোমিটার সড়ক, ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ, ১৪টি সেতু, ২২টি কালভার্ট ও একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের ফলে ১২টি ওয়ার্ড জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে। উত্তর চট্টগ্রামের বাস ও ট্রাক টার্মিনালের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য সাতটি ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত ও স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং ৩০টি নতুন পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মেয়র বলেন, প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের ৮১ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিটিআই প্রযুক্তি, বিশেষ মশকনিধন কর্মসূচি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়তে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে একটি নাগরিক সেবা অ্যাপ চালুর ঘোষণা দেন মেয়র। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ ও তথ্য জানাতে পারবেন।
এছাড়া হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা, ১০ লাখ গাছের চারা রোপণ, স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম, এআইভিত্তিক ক্যামেরা এবং আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

