রুপসীবাংলা৭১ অন্যান্য ডেস্ক : পথরেখা অনলাইন : মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَ جَعَلۡنَا فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِهِمۡ ۪ وَ جَعَلۡنَا فِیۡهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّهُمۡ یَهۡتَدُوۡنَ
সরল অনুবাদ :
‘আর আমি জমিনে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত, যেন তা পর্বতসমূহ নিয়ে একদিকে হেলে না পড়ে, আর আমি তাতে তৈরী করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যেন তারা চলতে পারে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩১)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
আরবি ভাষায় ميد শব্দটি অতিরিক্ত নড়াচড়াকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই আয়াতের অর্থ হলো, পৃথিবীর বুকে আল্লাহ তাআলা পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পৃথিবী অতিরিক্ত নড়াচড়া না করে। তাই পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়সমূহের ভূমিকা ও প্রভাব অপরিসীম।
অর্থাৎ যদি পৃথিবীতে এত বড় বড় পর্বত না থাকত, তাহলে পৃথিবী সব সময় নড়াচড়া করত। ফলে মানুষ ও জীব-জন্তুর বসবাসের উপযোগী হত না। (ইবনে কাসির, ফাতহুল কাদির, তাফসিরে জাকারিয়া)
পৃথিবীতে প্রশস্ত পথ বা পর্বতমালার মাঝে উপত্যকা তৈরী করেছি। যাতে এক জায়গা হতে অন্যত্র যাওয়া সহজ হয়।
يَهتَدُون এর অন্য এক অর্থ এটাও হতে পারে যে, ঐ পথ দ্বারা যাতে মানুষ নিজেদের জীবিকা ও জীবনযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহ পৃথিবীতে পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী অস্থিতিশীল না হয়। তাই পৃথিবীর সবকিছুই পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ-এটি আল্লাহর ক্ষমতা ও হিকমতের প্রমাণ।
২. পাহাড় শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই এটা আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিয়ামত।
৩. আল্লাহ পাহাড় স্থাপনের পাশাপাশি উপত্যকাও সৃষ্টি করেছেন । এভাবে আল্লাহ মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য প্রাকৃতিক ব্যবস্থা সাজিয়েছেন।
৪. এই আয়াত মানুষকে প্রকৃতি-পাহাড়, রাস্তা, পৃথিবীর গঠন ইত্যাদি-নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে উৎসাহ দেয়। কেননা এগুলোর মাধ্যেই স্রষ্টার অস্তিত্ব বিরাজমান।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

