গৌতম কুমার এদবরঃ একদিকে শহবাসির নাগরিক সুবিধা অন্যদিকে ২৫ বছরে গড়ে উঠা রাজধানীর প্রানকেন্দ্রে বাংলাদেশ অটোমোবইল শিল্প বিনাশ। উচ্ছেদ নয় চায় পুনর্বাসন ও শ্রমিক কর্মহীন থেকে রক্ষা। রাজধীনর প্রানকেন্দ্রে মতিঝিলে জলাধার,পার্ক ও শিশুদের খেলার মাঠসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবামূলক স্থাপনা নির্মান প্রকল্প উচ্ছেদ অভিযান-অটোমোবাইল শিল্পের হারিয়ে যাওয়ার পথে
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকার জলাধার, পার্ক ও শিশুদের খেলার মাঠসহ নাগরিক সেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যে ড্যাপ (২০১৬-২০৩৫) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল এলাকায় রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ একর জমিতে পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার পরিকল্পনা অন্যতম।

মতিঝিল প্রকল্প: মতিঝিল এলাকায় প্রায় ১১ একর জমিতে পার্ক, জলাধার ও শিশুদের খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে (দাবী প্রকল্পের)
দখলমুক্তকরণ: রাজউকের অধিগ্রহণকৃত জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও গাড়ির গ্যারেজ অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক কর্তৃপক্ষ।
ড্যাপ (২০১৬-২০৩৫): রাজউক বিস্তারিত অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ)-এর আওতায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে খেলার মাঠ ও পার্কের প্রস্তাবনা রেখেছে
লক্ষ্য: শহরের পরিবেশ উন্নয়ন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ এবং পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে খেলার মাঠ ও পার্কগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বর্তমানে এই প্রকল্পগুলো বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং রাজউক অধ্যাদেশ ২০২৬-এর নির্দেশনায় বাস্তবায়িত করতে যাচ্ছে রাজউক।
বাস্তব চিত্রে প্রকল্প এলকা মতিঝিল-কমলাপুরে রয়েছে ১৭২টি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ। ঢাকা শহরে প্রাণকেন্দ্রে ১৭২ টি ওয়ার্কসপে প্রায় দুই হাজার ক্ষুদ্র মেকানিকের কর্মসংস্থান। এই ওয়ার্কসপগুলোতে সকল সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ীর মেরামততের কাজ করেন। এটি একটি ক্ষুদ্র শিল্পও বটে, হঠাৎ করে এই শিল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে ওয়ার্কশপের মালিক ও শ্রমিক সকলেই বিপদে পড়বে তারই সাথে বিপদে পড়বে যানরা গাড়ী রিপেয়ারিং করেন। ওয়ার্কশপের মালিকদের দাবী আমাদের সকল কাগজপত্র এইখানের ঠিকানায় করা, আমরা জায়গার মালিকের কাছ থেকে অনেক টাকা জামানত দিযে ব্যবসা করে আসছি, আমরা যাদের কাজ করি তাদের সাথে আমাদের অনেক লেনদেন বাকি, আমাদের পুনর্বাসন না করলে আমরা কোথায় যাবো? আমারা যেমন কর্ম হারাবো তেমনি আমাদের বকেয়া পাওয়া আদায় হবেনা এবং এই দুই হাজার মেকানিক কর্মহীন হয়ে পড়েবে। তাই আমাদের উচ্ছেদ নয় এই ক্ষুদ্র শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের পুনর্বাসন করুন।
এই লক্ষ্যে গত ১মাস আগে সকল মালিক শ্রমিক একত্রিত হয়ে পুনবার্সনের দাবীতে মানববন্ধন করেন এবং গত ১২ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের বাংলাদেশ ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবী-দাওয়া তুরে ধরেন।
অবৈধ উচ্ছেদ আমরা সহযোগীতা করবো কিন্তু আমরা আমাদের অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হই সে বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করি।আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করছি, আমাদের ডিড ডকুমেন্ট সবই আছে -আমাদের দেনা-পাওনা পরিশোধ করুন আমরা জায়গা ছেড়ে চলে যাবো-ভাড়ায় চালিত ওয়ার্কশপের মালিক।

জায়গায় সকল বৈধ কাগজপত্র আছে,হাইকোর্টের স্টে-অর্ডার আছে তারপরেও আমাদের কেন উচ্ছেদ? সরকার একোয়ার করলে আমাদের ডকুমেন্ট দেখাক আমরা ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো-জায়গার মালিক পক্ষ।
১৭২টি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি জানান মতিঝিল ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এসব ওয়ার্কশপ পরিচালিত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে এসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হলে হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপগুলো কেবল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এগুলো একেকটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়া নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও এই খাতের উদ্যোক্তারা ভূমিকা রাখছেন।পরিকল্পিত ও মানবিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই খাতকে টেকসইভাবে পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
সমিতির সভাপতি ইঞ্জি. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি মানবিক ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তারা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা হলে তা এই শিল্পের সাথে জড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করা হয়। রাজধানীর মতিঝিলের সাদেক হোসেন খোকা রোডে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। রোড নং- ২, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানের পর সেখানে পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবৈধ দখল ও অস্থায়ী স্থাপনায় দখল হয়ে ছিল। নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত সবুজ স্থান তৈরির লক্ষ্যে এখানে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত।
উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। যারা অবৈধ ছিলেন তারা অনেকেই নিজ উদ্যোগে তাদের জিনিসপত্র ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন আর যানরা নেননি তাদের স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে তারা ম্যাজেস্ট্যেট কে কাগজপত্র এবং কোর্টের অর্ডার দেখালে তিনি তাদের কাগজপত্র দেখেন এবং উক্ত বিষয়ে সবকিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা করে আগামী রবিবার ১৯ এপ্রিল অবৈধ স্থাপনা সব উচ্ছেদ করনে এবং বৈধ জায়গা জায়গার মালিক কে বুঝিয়ে দিবেন বলে জানান।

