নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা পড়া একটি মহাবিপন্ন করাত মাছ ঘিরে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ঝালকাঠির আমুয়া মৎস্য বন্দর ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর বাজারে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দরের জেলেরা মঙ্গলবার ভোরে প্রায় ২৫ মণ ওজনের করাত মাছটি বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারে করে ঘাটে নিয়ে আসেন। বিশাল আকৃতি ও করাতের মতো লম্বা মুখের কারণে মাছটি দেখতে সেখানে ভিড় জমে যায়। পরে নিলামে স্থানীয় আড়তদার আব্দুল হাই সরদার আড়াই লাখ টাকায় মাছটি কিনে নেন।
পরবর্তীতে মাছটি মঠবাড়িয়া উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌর মাছবাজারে স্থানীয় আড়তদার মো. মোস্তফা কামাল ও মো. হোসেন শরিফ প্রায় ৫ লাখ টাকায় মাছটি কিনে নেন। এরপর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শন করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে কেজি দরে বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। বুধবার সকালে প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা দরে মাছ বিক্রি শুরু হয়। এতে বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই কৌতূহলবশত এবং স্বাদ নেওয়ার জন্য মাছ কিনতে ভিড় করেন।
তবে বিক্রির মাঝেই স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। তারা বিক্রির জন্য কাটা মাছের একটি অংশ উদ্ধার করেন এবং পরে উদ্ধারকৃত অংশসহ অবশিষ্ট মাছ মাটিচাপা দেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, করাত মাছ সংরক্ষিত ও মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত হওয়ায় এভাবে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি ও প্রদর্শন আইনসিদ্ধ নয়।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার বলেন, করাত মাছ বিশ্বজুড়েই মহাবিপন্ন এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এটি খুবই বিরল। এমন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা জরুরি, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি নয়।

