নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাণি সম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় চালু অথবা ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থান ব্যবস্থার দাবিতে’ শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
২৯ মার্চ ২০২৬ রোজ রবিবার সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় (ফার্মগেইট) প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবারের উদ্যোগে ১দফা দাবীতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রানালয়ের অধিনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হলো প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প। দেশের জনগনের পুষ্টি ও আমিষের যোগান নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে এবং দেশে ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, প্রাণিজজাতের পণের উৎপাদন বৃদ্ধি। মার্কেট লিংকেজ ও ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, বেসরকারী ভাবে উদ্যেক্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পারিবারিক ভাবে ২০% উৎপাদন বৃদ্ধি করা, সর্বপুরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নায়ন প্রাণিসম্পদ ভীতকে এগিয়ে নিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাকে সামনে রেখে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সরাসরি সরকারি বিধি মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা গণ কে অবগত করে উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতা, লিখিত ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা এবং প্রাণিসম্পদ অভিজ্ঞতা থাকা জনবলকে গত ১৬/১০/১৯ ইং সালে ইউনিয়ন ভিত্তিক লাইভষ্ঠোক সার্ভিস প্রোভাইডার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এলএসপি হিসাবে যোগদানের পর পরই বিশ্বে করোনা মহামারি শুরু হয় । এই করোনা মহামারি ভিতরে এই জনবল ডোর টু ডোর গিয়ে প্রতিটি পরিবারের গৃহপালিত পশুপাখির তথ্য অনলাইনের মাধ্যেমে সার্ভে করে। খামার জরিপ, অফিসের ফিল্ডের কাজ, সপ্তাহে অফিস ডিউটি, কোরবানির পশুর তথ্য ও কোরবানির হাটে রিনামূল্য চিকিৎসা ও পরামশ প্রদান করে। ৬৫০০ টি উৎপাদনকারি দল গঠন করে প্রতি মাসে তাদের থেকে সঞ্চয় আদায় করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জমা কার্যক্রম সম্পন্ন করে। বর্তমানে ১৩০ কোটি টাকা সঞ্চয় জমা রয়েছে। আমরা প্রতিটি খামারে ও ডোর টু ডোর গিয়ে পিপিআর, পুরা ও এনএসডি ভ্যাকসিন প্রদান করি। যার কারণে এই সব রোগ প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রতি বছর উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিপ্রদর্শনী মেলা আয়োজন করছি। নতুন নতুন উদ্যেক্তার পাশাপাশি এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া ও প্রাণিসম্পদ খাতকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভাবে রুপান্তর করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।প্রকল্পটি আগামী ৩১/০৩/২৬ ইং শেষ হতে যাচ্ছে।
ইউনিয়ন ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সাবেক প্রাধান উপদেষ্টার বরাবর, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রানালয়ে ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকল উর্দ্ধতন কর্মকর্তা মহোদয়ের নিকট একাধিকবার স্মারক লিপি প্রদান সহ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে এবং ঢাকা প্রসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন ও শান্তিপূর্ণ ভাবে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের মাধ্যমেও দাবি জানিয়ে আসছে। আমাদের কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা না হওয়াই আজ আবার ও পরিবারের মুখে দু মুঠো ডাল-ভাতের জোগারের আসায় আমরা আবার একত্রিত হয়েছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় মন্ত্রী মহাদয় সহ সকল উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাদের নিকট আমাদের এই দাবিটি পৌছাতে চাই। আমরা এই চাকরিটি হারালে চরম অর্থনৈতিক ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে পরে যাবো। কারণ আমরা নিজের পরিবারের ও দেশের স্বার্থে এই সেক্টরে দিন রাত নিরলস ভাবে কাজ করে প্রণিসম্পদ খাতকে উন্নত দেশের কাতারে তালিকায় নিয়ে আসায় আমাদের মুল লক্ষ্য। আমাদেরকে গত ৭বছর সরকারি অর্থায়নে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষন ও হাতে কলমে অভিজ্ঞতা প্রদান করা হয়। এই প্রশিক্ষিত কর্মীদের অব্যহতি দিলে রাষ্ট্রের বিশাল বিনিয়োগ ও অর্জিত অভিজ্ঞতার অপচয় ঘটবে। এই জনবল না থাকলে গবাদীপশুর বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব পূণরায় আবার বেড়ে যাওয়া এবং খামারিদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার বুকি রয়েছে। আমাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা সারা দেশের ৬৫০০ টি উৎপাদনকারি দল গুলোর সঞ্চয় ব্যবস্থাপনা, সমবায় কার্যক্রম, ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় বজায় রাখার জন্য এলএসপিদের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলো থেকে ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে সরাসরি সেবা পৌছানো অত্যান্ত কঠিন। আমাদের ছাড়া খামারি পর্যায়ে সেবা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। এতে দেশ ও খামারিরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়বে। স্থায়ী ইউনিয়ন ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে বর্তমান সরকারের নতুন বাংলাদেশ স্বনির্ভপ্রাণিসম্পদ গড়ার অন্যতম হিসাবে কাজ করবে।
শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবারের ৪২০০ সদস্য উপস্থিত হয়ে ১দফা দাবীতে অবস্থান নেন এবং দাবী মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পত্যাহার করবেন না বলে জানান।


