বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাহী সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউসুফ আলী মৃধা। এতে বরগুনা জেলার আওতাধীন ছয়টি উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, প্রতিটি ইউনিয়নের আহ্বায়কসহ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকার সভাপতি ও প্যালেস্টাইন প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। আরও বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সালেহ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদার, আমতলী উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বরগুনা জেলা সমিতি, ঢাকার সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. শাহআলম, বরগুনা জেলা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাবিবুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বারেক, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সানু, পাথরঘাটা উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবুর রহমান, বামনা উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সেলিম মিয়া এবং তালতলী উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরউদ্দিন প্রমুখ।
সভা শুরুর আগে বরগুনা জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আবদুর রশিদের মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সভায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরকারের নতুন পে-স্কেল কার্যকরের প্রেক্ষাপটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪০ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং তা সরকারের কাছে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘বীর নিবাস’ প্রকল্প অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রকল্পের নাম থেকে ‘অসচ্ছল’ শব্দটি বাদ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানানো হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন ছাত্র-যুব সমাজকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছিল। একইসঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর দেওয়া লিখিত চিঠির মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশি যোদ্ধাদের কমান্ডারের দায়িত্ব দিয়ে প্যালেস্টাইন রণাঙ্গনে কমান্ডো হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু তাঁর সহোদর বড় ভাই, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বরগুনার সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাসদের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরুর প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রচেষ্টায় বরগুনার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি পাকিস্তানি বাহিনী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউসুফ আলী মৃধা বরগুনা সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়কের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের যেকোনো সমস্যা নিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে যোগাযোগের আহ্বান জানান এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে দুপুরের খাবারের আহ্বানের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


