নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের আড়াই মাস আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ধানমন্ডি থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
আজ বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ তাঁদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আইনজীবীরা বলেন, ‘গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল উদ্দিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেছেন। তাঁরা সেখানে কোনো দলের কর্মী হয়ে যাননি। এরপরও পুলিশ তাঁদের তিন মাস আগের একটি মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আমরা আদালতে জানিয়েছি, এরা সবাই এখনো শিশু। এটা একটা মিথ্যা মামলা। এ মামলার সঙ্গে আসামিদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা আদালতের কাছে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।’
গতকাল সকালে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন তাঁর ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘ধানমন্ডি ৩২–এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।’
কারাগারে রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিদের ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ধানমন্ডি থানাধীন ৩২ নম্বর রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের মামলার ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং প্রাথমিক তদন্তে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে। আসামিরা মামলার ঘটনার তারিখ ও সময়ে মামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিকেল পৌনে ৫টায় রাজধানীর ধানমন্ডি থানাধীন ২৮ নম্বর রোডে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করেন। পাঁচ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুজনকে আটক করে, বাকিরা পালিয়ে যান। এ ঘটনার পরের দিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মো. আল হেলাল।

