নিজস্ব প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীসংকৈল উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন মনিরা বিশ্বাস। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অঙ্গসংগঠন মহিলা দলের রানীসংকৈল উপজেলা শাখার একজন নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সংগঠনের কঠিন সময়েও তিনি দৃঢ় মনোবল ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
মনিরা বিশ্বাসের রাজনৈতিক পথচলার পেছনে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর বাবা, মৃত মইনদ্দিন বিশ্বাস, রানীসংকৈল উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শের একনিষ্ঠ সৈনিক। দলীয় সূত্র জানায়, মইনদ্দিন বিশ্বাস সরাসরি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় বিএনপির সংগঠন শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনই মনিরা বিশ্বাসের প্রেরণার মূল উৎস।
২০০৯ সাল থেকে মহিলা দলের দায়িত্ব গ্রহণের পর মনিরা বিশ্বাস নারী নেত্রী ও কর্মীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক সভা-সমাবেশে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ জুগিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের সময়েও মনিরা বিশ্বাস ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মহিলা দল ঐক্যবদ্ধ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে তিনি সবসময় শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
মনিরা বিশ্বাস বলেন, তাঁর রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা মূলত তাঁর বাবা। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাড়িতে রাজনৈতিক আলোচনা, দলীয় নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়া এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতির চর্চা দেখেছেন। তিনি মনে করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল দেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া—এবং সেই আদর্শ ধারণ করেই তিনি রাজনীতি করছেন।
ভবিষ্যতেও দল ও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মনিরা বিশ্বাস। তাঁর লক্ষ্য, নারীদের আরও বেশি রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের আশা, তাঁর নেতৃত্বে রানীসংকৈল উপজেলা মহিলা দল আগামী দিনেও সুসংগঠিত ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

