নিজস্ব প্রতিনিধি : আমাদের দেশে স্বাস্থ্য উন্নয়নে বেশকিছু আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হলেও তার সঠিক বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয় আমাদের জাতীয় উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে জাতীয় নীতিমালার মূল কেন্দ্রবিন্দু করে সচেতনতা-ভিত্তিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব উদ্যোগ এবং সরকার – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ‘‘শক্তিশালী অর্থনীতি, শক্তিশালী সমাজ: জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশনের ভূমিকা’ শীর্ষক অনলাইন কনফারেন্স এ এই আহ্বান জানানো হয়। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টসহ অংশগ্রহণকারী ২২ টি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে নতুন নির্বাচিত সরকারকে জনস্বাস্থ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষরিত “যৌথ ঘোষণাপত্র” বাস্তবায়ন এবং একটি পৃথক ও স্বাধীন “হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। কনফারেন্সে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে উদ্ভাবনী ধারণা, নীতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে দেশের প্রায় ৫০ জন খ্যাতনামা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, সমাজকর্মী তাদের তথ্য, মূল্যবান বক্তব্য ও মতামত তুলে ধরেন। এছাড়াও শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণকারী অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। কনফারেন্সের প্রতিটি অধিবেশন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এই কনফারেন্সে উদ্বোধনী ও সমাপনী প্ল্যানারি সেশনসহ সমান্তরাল ১ ও ২ সেশনে মোট ৩ টি সেশনসহ মোট ৮টি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
কনফারেন্সে অংশগ্রহকারী বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ের পাশাপাশি সুশাসন ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। পুঁজিবাদী চিন্তা থেকে আমরা অস্বাস্থ্যকর জীবনাচার ও খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। নতুন নির্বাচিত সরকারকে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা ও টেকসই অবকাঠামো নির্মানে উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারি সংগঠনগুলোকে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে হবে । জনস্বাস্থ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রচার –প্রচারণা চালানো জরুরি।
বক্তারা আরো বলেন, নগর পরিকল্পনায় হাঁটা ও সাইকেলবান্ধব পরিবেশ, পার্ক, মাঠ, জলাশয় সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেয়া, বায়ু ও শব্দদূষণ, তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ; তামাক, কোমল পানীয়, ব্যক্তিগত গাড়িসহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ডকুমেন্ট প্রস্তুত; এডভোকেসি এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা জরুরি। শিশু, নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ গণপরিসর নিশ্চিত ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে হেলথ প্রমোশন প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, নীতি উন্নয়ন, এ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। বক্তারা স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিমধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন; তামাক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর আরোপিত সারচার্জ/কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ হেলথ প্রমোশন কার্যক্রমে ব্যয় করার দাবি জানান।
মূল আয়োজক ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টসহ সহ-আয়োজক হিসেবে এই কনফারেন্সের বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল, পথিকৃত ফাউন্ডেশন, আর্ক ফাউন্ডেশন, বিসেফ ফাউন্ডেশন, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ডেভলপমেন্ট এক্টিভিটিস অব সোস্যাইটি (ডাস), এইড ফাউন্ডেশন, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, সেন্টার ফর ‘ল’ এন্ড পলিসি এফেয়ার্স (সিএলপিএ ট্রাস্ট), কমিউনিটি সোস্যাল ওয়ার্ক প্রাক্টেস এন্ড ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনক্রিজিং এনালাইসিস মুভমেন্ট (সিয়াম) এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিবৃন্দ।
