বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: নাজমুল রানা।
জামালপুর জেলা বকশীগঞ্জ উপজেলার ঘাসির পাড়া গ্রামে শিশু সামিয়ার জীবন আজ গভীর অনিশ্চয়তা আর মানবিক সংকটে ঘেরা। জন্মের মাত্র চার মাস পরই মায়ের সান্নিধ্য হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে শিশুটি। পারিবারিক জটিলতার কারণে সামিয়ার মা শিশুটিকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তার বাবা-মা সামিয়ার মাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
এরপর থেকেই শিশু সামিয়ার লালন-পালনের দায়িত্ব পড়ে তার অসুস্থ দাদির কাঁধে। শিশুটির বাবা সাব্বির পেশায় একজন রিকশাচালক। সামান্য আয়ে নিজের দৈনন্দিন সংসার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। ফলে ছোট্ট শিশুটির ভরণ-পোষণ ও চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
শিশুটির দাদি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কোনো নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। বর্তমানে তারা মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় দাদি বাড়ি বাড়ি ঘুরে সামান্য চাল সংগ্রহ করেন। সেই চাল গুঁড়ো করে প্রতিদিন নাতনিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। নাতনির মুখে একমুঠো খাবার তুলে দিতে গিয়ে দাদির এই সংগ্রাম এলাকাবাসীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটি প্রায়ই অপুষ্টি ও অসুস্থতায় ভুগছে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসা না পেলে তার ভবিষ্যৎ আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থায় মানবিক সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অসহায় এই শিশুটি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

