রুপসীবাংলা ৭১ঃ মতভিন্নতা দূরে সরিয়ে ‘এক বাক্সে’ ভোট দেওয়ার নিয়তে নির্বাচন ও পরে সরকার গঠন করার স্বপ্ন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ ইসলামী ঘরানার দলগুলো গড়ে তোলে এগার দলীয় জোট। তবে জোট নেতাদের মন ভেঙে দিয়ে শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে গেল চরমোনাই পীরের দল, যারা এই ভাঙনের জন্য সরাসরি ডা. শফিকুর রহমানের দলটিকেই দায়ী করেছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের বৃহত্তর শরিক দল ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে কথায় কথায় অপমান, অপদস্থ করে গুরুত্বহীন মনে করা, জোটের সঙ্গে আলোচনা না করে ইসলামী দলগুলোর ‘এক বাক্স’ নীতি অনুযায়ী ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের খেলাফ করে বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে সরকার গঠনের লক্ষ্যসহ নানা অভিযোগ তুলেছে দলটি। এসব কারণে শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোট থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বেরিয়ে যায় ইসলামী আন্দোলন। তবে যেসব অভিযোগ করে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে গেছে, তার সঙ্গে মূল কারণ হলো আসন ভাগাভাগি।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জানান, কথা ছিল জোটের নেতারা সবাই মিলে সংসদীয় আসন যাচাই-বাছাই করে যে যেখানে শক্তিশালী সে সেখানে মনোনয়ন পাবে। এভাবে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আলোচনা হয়।কিন্তু নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসে ততই ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করতে থাকে জামায়াত।তারা বড় দল হিসেবে বেশি আসন নেওয়ার বিষয়টি দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়।ক্ষেত্রবিশেষ ছোট দলগুলোকেও ভেতরে ভেতরে এ বিষয়ে ম্যানেজ করে রাখে।ইসলামী আন্দোলন তাদের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়ে সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে কমপক্ষে ৬০টি আসন দাবি করে।কিন্তু জামায়াত জোট ৪০ আসনে রাজি হয়। পরবর্তী এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। কে কাকে আসন দেবে এ নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধও চলে দল দুটির নেতাদের মধ্যে। কথা উঠে, ইসলামী আন্দোলন যেটা ন্যায্য সেটা নেবে, এখানে জামায়াত আসন দেওয়ার কে? একপর্যায়ে জোট ভাঙার গুঞ্জন শুরু হয়। জামায়াতসহ দলগুলোর নেতারা আসন সমঝোতা করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।বৈঠকের পর বৈঠক চলে। ইসলামী আন্দোলনকে ৪৫ আসন পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার কথা চাওর হয়।এর মধ্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে মিলেমিশে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলে ইসলামী আন্দোলন আরো ক্ষুব্ধ হয়।এর মধ্যেই আসন বণ্টনের বিষয়টি সামনে আসে।
সমঝোতার চেষ্টা চলে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ জোটের নেতাদের মধ্যে।একাধিক বৈঠক করে যেকোনো মূল্যে জোট ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

