নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ ও আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে “৭ই জানুয়ারি ফেলানী হত্যা দিবস” উপলক্ষে ৭ই জানুয়ারি, ২০২৬, বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “শহীদ ফেলানীসহ সকল সীমান্ত হত্যা ও আধিপত্যবাদী হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন” অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক ও ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আমীন পীর সাহেব বি,বাড়ীয়া বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ৫৬ বছরে সীমান্তে ফেলানীসহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে। কোন বিচার হয়নি। সীমান্ত হত্যাও বন্ধ হয় নি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাতে হবে। আধিপত্যবাদী আগ্রাসন প্রতিরোধে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আধিপত্যবাদী আগ্রাসনে শহীদ ফেলানী, উসমান হাদী, আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, আবরার ফাহাদসহ সকল শহীদদের হত্যার বিচার দাবি করেন ও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে “প্রতিরক্ষা জোট” গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি ভারতীয় ও ইসরাইলি পণ্যসহ সকল শত্রুপণ্য বর্জনে সকলের প্রতি দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলন এর আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশীদ খান বলেন, আজ ৭ই জানুয়ারি ফেলানি হত্যা দিবস। এই দিবসে একটি নাম আমাদের বিবেককে বারবার নাড়া দেয়, সেই নাম হলো ফেলানী খাতুন, ১৫ বছরের এক কিশোরি। সে কোনো অপরাধী ও অস্ত্রধারী ছিল না। সে শুধু তার বাবার হাত ধরে বেঁচে থাকার আশায় সীমান্ত পার হতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে গুলি করে, কাটাতারে ঝুলিয়ে রেখে, প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি হত্যা নয়, একটি জীবনের অধিকার লঙ্ঘন, শিশু অধিকারের চরম অবমাননা, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সহিংসতার নগ্ন উদাহরণ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম বলেন, ফেলানি হত্যাকাণ্ড ছিল ভারতীয় সীমান্ত হত্যার একটি নগন্য চরিত্র। ভারতের কাছে বাংলাদেশের মানুষের মূল্য কি পশুর চেয়ে কম? এই ধরনের হত্যার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো স্বাধীন তদন্ত, দেওয়ানি আদালতে বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু তা করা হয়নি। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সক্রিয় হস্তক্ষেপ না থাকায় ফেলানির পরিবার আজও ন্যায়বিচার পায়নি।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সদস্য সচিব মোঃ ইলিয়াস রেজা, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ওবায়দুল হক, মায়ের ডাকের কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুর হোসেন ঈসা, রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুফতি জসিম উদ্দিন ইয়াসিন, ড. নাজিম উদ্দিন, রাজু আহমদ খান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

