নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজধানীতে ক্ষুদ্র মাংস ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি প্রদান ও দূর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবীতে ৮ দফা দাবী উত্থাপন। ৪০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রয়ের সুযোগ দাবী করেছেন আন্দোলনকারীরা। গাবতলী হাটের ইজারা বাতিলের দাবী!!
(আজ সোমবার) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের দৈনিক বাংলা মোড় হতে প্রেস ক্লাবের পাশে সচিবালয়ের গেট পর্যন্ত মিছিল করেছে দৈনিক ক্ষুদ্র মাংস প্রস্তুতকরণ ও বিক্রেতা সোসাইটি। মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হালিম কেরাইশী (চান) । সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ (ন্যাপ বাংলাদেশ) এর মহাসচিব নেয়াজ আহমদ খান। সমাবেশে বক্তাগণ বলেন যে, সরকারের মধ্যে সক্রিয় দূর্নীতিবাজ চক্র ও গাবতলীর হাটের ইজারা গ্রহীতা পরস্পরের যোগসাজসে রাজধানীসহ সারাদেশে পশুর গোশতের দাম বৃদ্ধির জন্য তৎপর হয়েছে। মাংসের দাম বৃদ্ধি পেলে জনগনের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিবে। গরুর মাংসের দাম ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ক্ষুদ্র মাংস ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছে ।
মাংস ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মাংসের মূল্য নিয়ন্ত্রনে সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা কোনভাবেই মাংসের দাম বৃদ্ধি হোক তা কোনো ভাবে চান না। ক্ষুদ্র মাংস প্রস্তুতকরণ ও বিক্রেতা সোসাইটির মিছিল পূর্ব সমাবেশে সরকারের নিকট ৮ দফা দাবী উত্থাপন করেছেন। দাবীগুলো হলো -১। মাংসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গরু/মহিষ এর বিশাল ঘাটতি পূরণ, ক্রয়/বিক্রয়, আমদানী ও হাট পর্যন্ত গবাদি পশু পৌছা পর্যন্ত সকল প্রকার নীপিড়ন ও অনিয়ম বন্ধে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন; ২। উচ্চহারে হাসিল আদায়ের সকল অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে; ৩। রাজধানীর গাবতলীর গবাদি পশুর হাটসহ সারাদেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত হাটসমূহের হাসিলের রশিদ ডিজিটালাইজড/কম্পিউটারাইজড করতে হবে-যা সরকারের রাজস্ব বিভাগের সাথে সংযুক্ত থাকবে; ৪। মাংসের দাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবাদীপশুর হাটে উচ্চহারে হাসিল আদায়ের ষড়যন্ত্রকারী স্থানীয় সরকার সচিব ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এজাজ আহমেদকে অপসারণ করতে হবে এবং দূর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে; ৫। ইজারার শর্ত ভংগকারী ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী গাবতলী হাটের ইজারা গ্রহীতা এরফান ট্রেডার্সের ইজারা বাতিল করতে হবে; ৬। ক্ষুদ্র মাংস ব্যবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সন্তানদের শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ সহযোগীতা প্রদান করতে হবে; ৭। গরু/মহিষ ব্যাপারী বা পাইকারী বিক্রেতাদেরকে সরকার কর্তৃক (আউটসোর্সিং) তালিকাভুক্ত করতে হবে। তাদেরকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় এনে লেন-দেনসহ সকল বিষয়ে নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। ইজারা গ্রহীতা কর্তৃক গরু ব্যাপারীদের নিকট হতে হাটে জায়গার ভাড়া আদায়, দোকান ভাড়া প্রভৃতি বন্ধ করতে হবে; ৮। ক্ষুদ্র মাংস ব্যবসায়ীদের অনুপস্থিতিতে তাদের প্রতিনধিদের মাধ্যমে গরু/মহিষ/ছাগল/ভেড়া বিক্রয়ের অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সকল বাঁকা পথ বন্ধ থাকতে হবে। উপদেষ্টা নেয়াজ আহমদ খান ও সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হালিম কোরাইশী (চান), সহ সভাপতি খলিলুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার নিকট তাদের ৮ দফা দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন পার্সোনাল অফিসার রাশেদ।
স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে সমেবেত সংগঠনের কর্মী অনুসারীদের সামনে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারী মোঃ ভুট্টো, আব্দুল মালেক, খলিলুর রহমান, মহিউদ্দিন, শামিম আহমেদ, আয়নাল হক, মোঃ মুরাদ, নাসির, মামুন, রাজন প্রমুখ।

