আজ ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১:০০ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রয়াত সভাপতি আয়শা খানমের ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রয়াত সভাপতি আয়শা খানমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে সংগঠনের কর্মকর্তাদের মধ্যে দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন এডভোকেসি এন্ড নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী, লিগ্যাল এডভোকেসি ও লবি পরিচালক দিপ্তী রানী শিকদার, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার পরিচালক শাহজাদী শামীমা আফজালী শম্পা; প্রশিক্ষণ অফিসার মায়াবী দত্ত, প্রোগ্রাম অফিসার ঝর্ণা আক্তার ও স্টোর কিপার রোকেয়া বেগম। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করেন প্রশিক্ষণ অফিসার মায়াবী দত্ত ও প্রোগ্রাম অফিসার ঝর্ণা আক্তার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আইটি কো-অর্ডিনেটর দোলন কৃষ্ণ শীল; একক সংগীত পরিবেশন করেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার পরিচালক শাহজাদী শামীমা আফজালী শম্পা।
সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আয়শা খানমের সাথে আমাদের স্মৃতি অনেক। তিনি এসময় আয়শা খানমের কর্মময় জীবন, তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, অতুলনীয় বাগ্মিতা, দেশের জন্য এবং নারী আন্দোলনের জন্য করা কাজের কথা তুলে ধরেন। নারী আন্দোলনের জাতীয় ও বৈশি^ক ইতিহাস ও দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে যুক্ত করে তার অনর্গল বক্তৃতার কথা তিনি স্মরণ করেন। তাঁর দেয়া বক্তব্যের তথ্যগুলো জনপ্রতিনিধি, নারী আন্দোলনকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ সকলের জন্য নিজ নিজ করণীয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করত। তাঁর শক্তির উৎস্য ছিলো সংগঠনের দেশব্যাপী তৃণমূল শাখার কর্মীবাহিনী, যাদের তিনি ধারণ করতেন। তিনি এসময় আগামীর জন্য নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে প্রয়াত আয়শা খানমের দেখানো পথকে অনুসরণ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ তোলার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবার সাথে পেশাগত দক্ষতাবৃদ্ধি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, সমাজ কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বেসরকারি সংস্থারকর্মীসহ সকলের কাজকে একত্র করার উপর জোর দিতে আহবান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আয়শা খানমের সাথে আমার পথচলা। তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও মহিলা পরিষদের প্রতিমুহূর্তের পথচলায় সঙ্গে রয়েছেন-এটা আমরা সকলেই জানি এবং বিশ^াস করি। নিজের মত প্রকাশে তিনি কখনো দ্বিধা করত না। তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ছিলো বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে তৈরি করা, সমাজের অগ্রগতির জন্য মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা ছিলো তাঁর চরিত্রের অন্যতম গুণ। বর্তমানের সংকটকালে তাঁর অভাব আমরা বিশেষভাবে অনুভব করি। তবে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাঁর দেখানো পথকে অনুসরণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, থেমে থাকা যাবেনা; মানুষকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে; মানুষকে কেন্দ্র করে ভাবতে হবে।
উক্ত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, উপপরিষদ সদস্যবৃন্দ এবং কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।

