নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আজ ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকাসহ সারাদেশব্যাপী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিতকরণ, ওভারটাইমের ন্যায্য মজুরি প্রদান, ছুটি ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা কার্যকর করার জোরালো দাবি জানায়।
ঢাকা মহানগরের কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী, বংশাল থানার সমাবেশ ফুলবাড়ীয়া ফায়ার সার্ভিসের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ ইঞ্জিনিয়ার, যুগ্ম-সম্পাদক আতিকুল ইসলাম টিটু। যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শ্যামপুর, সায়েদাবাদ এলাকার সমাবেশ যাত্রাবাড়ী ঢাকা হোটেলের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সহ-সভাপতি মোঃ ইয়াসিন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আলী। মতিঝিল, পল্টন থানার সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বেলায়েত হোসেন নয়ন, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি থানার সমাবেশ নিউমার্কেট ওভারব্রিজের নিচে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি প্রকাশ দত্ত, সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম খান। তেজগাঁও, ফার্মগেট এলাকার সমাবেশ গ্রীন সুপার মার্কেটের সামনে অনুষ্ঠিত হয়, এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মামুন আহমেদ খান। মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর থানার সমাবেশ মীরপুর বেনারশী পল্লির সামনে অনুষ্ঠিত হয়, এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশগুলোতে শ্রমিক নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের অবহেলা, শোষণ ও আইন লঙ্ঘনের কারণে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। সরকার ঘোষিত মজুরি গেজেট ও শ্রম আইন কার্যকর না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা আরও বলেন, এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়। এটি শ্রমিকের বাঁচার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে।

