রপসীবাংলা৭১ অন্যান্য ডেস্ক : প্রধানত নদী, খাল, লেক বা অন্য কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি ঘাস-ভূমি, গুল্মের ঝোপ, আখক্ষেত, নলবনে এই পাখিরা বসবাস করে। পোকামাকড়, ছোট শামুক, মাঝে মাঝে গাছের কচি পাতা এরা খায়। তবে দাগি ছাতারে বেশি উড়তে পারে না
কাজিপাড়া গ্রামের একটি মাঠের কাছে ঝোপে এক দলে ১২টি পাখি। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার সীমান্তবর্তী ওই গ্রামের একটি আখক্ষেতের কাছে ও মাঠে কিছু বুনো গাছপালার ঝোপঝাড় তখনো ছিল। ঝোপের মধ্যে পাখিগুলো পিউ…পিউ…মিষ্টি সুরে ডাকাডাকি করছিল। কিছুক্ষণ পর একটি পাখি উড়ে গিয়ে বসে পাশের একটি গাছের ডালে।
তারপর এক এক করে বাকি ১১টি পাখিও উড়ে গিয়ে বসল ওই ডালে। দাগি ছাতারের (Turdoides earlei) এমন বৈশিষ্ট্য পাখিটিকে চিনতে সাহায্য করে। এরা দল বেঁধে বসবাসকারী সামাজিক পাখি। দলনেতা আছে কি না তা জানা নেই।
তবে দলের প্রথম পাখিটি যেদিকে উড়ে যাবে, বাকিরাও তাকেই অনুসরণ করবে। আবার কোনোভাবে পথ হারালে ডাকাডাকি করে পথ চিনতেও সাহায্য করবে।
একেকটি দলের নির্দিষ্ট টেরিটরি বা বিচরণ এলাকা থাকে। প্রধানত নদী, খাল, লেক বা অন্য কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি ঘাস-ভূমি, গুল্মের ঝোপ, আখক্ষেত, নলবনে এই পাখিরা বসবাস করে।
পোকামাকড়, ছোট শামুক, মাঝে মাঝে গাছের কচি পাতা এরা খায়। তবে দাগি ছাতারে বেশি উড়তে পারে না। বরিশাল, শেরপুর, সাতক্ষীরা, পদ্মার চর (মাওয়া, মুন্সীগঞ্জ), সুনামগঞ্জ জেলায় দাগি ছাতারে পাখির দেখা পেয়েছি। তবে প্রথম দেখা পেয়েছি শেরপুর জেলার ভোগাই নদীর তীরে। গ্রীষ্মের দুপুরবেলা নদীতীরের একটি ঝোপে কয়েকটি দাগি ছাতারে ডাকাডাকি করছিল সেদিন।
অবশ্য প্রতিবারই দলের দেখা পেয়েছি। এই পাখিটি কোথাও কোথাও ডোরা সাতভাওলা নামেও পরিচিত।
দাগি ছাতারে মাঝারি আকারের দুর্লভ পাখি। লেজ লম্বা। দেহের দৈর্ঘ্য চার ইঞ্চি। দেহের পালক মেটে বাদামি, তার ওপর কালচে বাদামি রেখা থাকে, যা মাথা, ঘাড়, পিঠ হয়ে লেজের আগ পর্যন্ত বিস্তৃত। চোখের মণি হলুদ, ঠোঁট মৃদু হলদে, পা সিসা রং আর নখর গোলাপি। প্রজনন সময় মার্চ থেকে অক্টোবর। জলের কাছাকাছি নিচু ঝোপে বাসা বানায় ঘাস, লতাপাতা দিয়ে। বাসা গোলাকার ও মজবুত। তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে, রং ফ্যাকাসে নীল। দলের সব পাখি ছানাদের আদর-যত্ন করে। দাগি ছাতারে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মায়ানমারে দেখা যায়। নলবন, প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় বিনাশের ফলে পাখিটি সংখ্যায় কমে যাচ্ছে।
লেখক : নিসর্গী ও পরিবেশবিদ, জার্মান এরোস্পেস সেন্টার
রপসীবাংলা৭১/এআর


