নিজস্ব প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে একটি মিনিট্রাক চুরির আট দিন পর এর যন্ত্রাংশ ফেনীর সোনাগাজীর এক যুবদল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে ট্রাকের কাটা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম ইপিজেড থানা ও সোনাগাজী মডেল থানা-পুলিশ। এর আগে ট্রাক চুরির সঙ্গে জড়িত চালককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
এ ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমাম হোসেনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার চালকের নাম মো. ইউনূস (৪০)। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে হারুনুর রশিদ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির মিনিট্রাকটি চুরি হয়। ট্রাকটি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমাম হোসেনের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সেখানে ইমাম হোসেনের ভাই আইভির সহায়তায় ট্রাকের যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা হয়। পরে ট্রাকচালক মো. ইউনুস ট্রাকের যন্ত্রাংশগুলো ফেনী সদর উপজেলার লালপুল এলাকায় একটি গ্যারেজে বিক্রি করতে নিয়ে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ ট্রাকচালক ইউনুসকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চালক ট্রাকটি চুরি করে যুবদল নেতার গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ট্রাকটির মালিক হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানায় মামলা করেন।

চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে চুরি হওয়া মিনি ট্রাকের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয় সোনাগাজীর যুদবল নেতার গ্রামের বাড়ি থেকে। আজ দুপুরে তোলা
এ ঘটনায় যুবদল নেতার ভাই আইভির মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকচালক ইউনুসের স্বীকারোক্তিতে যুবদল নেতার ভাই আইভির নাম উঠে এসেছে। বাকিটা মামলার তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে আজ দুপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমাম হোসেন ভৈরব চৌধুরী বাজারে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর পূর্ব থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে থাকেন না। গাড়ি চুরির ঘটনায় আটক ট্রাকচালককেও তিনি চেনেন না। শুধু বিএনপি করার অপরাধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাড়িতে থাকার একটি ঘরও নেই। তাঁর এক ভাইকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। ট্রাক চুরির ঘটনায় তাঁর অন্য ভাই জড়িত কি না, তা-ও তিনি জানেন না। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি নাছির উদ্দিন খোন্দকার বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে ইমাম হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত কি না, তদন্ত করা হচ্ছে।
