রুপসীবাংলা৭১ প্রতিবেদক : মাথার উপর ছাদ হারানোর আশঙ্কায় আজিমপুর সরকারি কলোনির (জোন-সি) ৪১৮টি সরকারি চাকরিজীবী পরিবার। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা হলে সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এমন মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আজিমপুর সরকারি কলোনির (জোন-সি) ৪১৮টি সরকারি চাকরিজীবী পরিবার।
তারা অভিযোগ করেছেন, একনেক সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একক ও মনগড়া সিদ্ধান্তে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দিয়েই ভবন নির্মাণ ও ভাঙার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে এসব কথা বলেন জোন-সি’র বাসিন্দা শামসুন্নাহার। এ সময় এলওটি ৩৯ এর নম্বর ভবনের মুশফিকুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম, ৩২ নম্বর ভবনের সাইফুল ইসলাম, ৪০ নম্বর ভবনের (পুরাতন) মুক্তাদির হোসেন, ২৪ এলওটির নাজমুন নাহার, ২৫ নম্বর এলওটির রীমি আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শামসুন্নাহার বলেন, তারা সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী। কেউ সচিবালয়ে, কেউ আদালতে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর আজিমপুর জোন-সি এলাকায় বসবাস করে তারা এখানেই গড়ে তুলেছেন পরিবার, সন্তানদের শিক্ষা আর জীবনের স্বপ্ন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের সন্তানরা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদয়ন স্কুল, বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। হঠাৎ করে বাসা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।
তারা বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একের পর এক দরপত্র আহ্বান করা হলেও আজ পর্যন্ত ৪১৮টি পরিবারের কাউকেই বিকল্প বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনের সভায় একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোন-সি প্রকল্প শুরুর আগে বর্তমান বাসিন্দাদের জোন-বি এলাকায় পুনর্বাসনের কথা ছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে এখন মৌখিকভাবে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে স্থানান্তরের কথা বলা হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর কাছে চরম উদ্বেগ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়া এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা কেউ অবৈধ দখলদার নই। রাষ্ট্রের চাকরি করে আজিমপুরে সরকারি নিয়মে বসবাস করছি। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ হলে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া, নিরাপত্তা—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।’
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন ও লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যার সমাধানে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন—একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোন-বিতে পুনর্বাসন, জোন-এ’র নবনির্মিত ভবনে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর অথবা আজিমপুরের অন্যান্য প্রকল্পের মতো দুই ধাপে জোন-সি প্রকল্প বাস্তবায়ন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামসুন্নাহার বলেন, মাসখানেক আগে ৩১টি ভবন ভেঙে ফেলার নোটিশ দিয়ে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তবে ভাঙার আগে কোথায় তারা যাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তিনি। শামসুন্নাহারের দাবি, ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক স্থাপনা গড়ে তোলার আগে বাসিন্দাদের জন্য অন্তত মাথা গোঁজার একটি বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

