রুপসীবাংলা৭১ প্রতিবেদক : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে সারাদেশের মতো লক্ষ্মীপুর জেলায়ও উৎসবের আলো জ্বলে উঠেছে। ঢাক, ঢোল আর কাঁসরের শব্দে পূজার আমেজ তৈরি হয়েছে। এ বছর জেলায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৭৮টি পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা, সাজগোজ ও আলোকসজ্জা।
শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে পুলিশ সুপার আকতার হোসেন ও জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় তারা মন্দির কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে সবধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ৭৮টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। সদরে ৩৩টি, রামগঞ্জে ১৯ টি, রায়পুরে ১২টি, রামগতিতে ১১টি ও কমলনগর উপজেলায় ৩টি। ইতিমধ্যে প্রত্যেকটি মণ্ডপে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি মণ্ডপ সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসব যেন নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে, সেজন্য পুলিশের পোষাক ও সাদা পোষাকে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।
পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা, মঞ্চ ও সাজসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এ উপলক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন পৃথক পৃথক সভা সমাবেশ করেছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যৌথভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমা কারিগর প্রীতম মজুমদার বলেন, প্রতিমা বানানো, মঞ্চ তৈরি এবং সাজসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরি করে যে টাকা পাওয়া যায় সে টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হতে হয় কারিগরদের। এটা বাপ-দাদার পুরানো পেশা। তাই এই পেশায়ই আছি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এবার এখনও পর্যন্ত কোন আশঙ্কা নেই।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আকতার হোসেন বলেন, জেলার ৭৮ টি পূজামণ্ডপে ৪ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হিন্দুরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন সদা তৎপর রয়েছে । প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এটি চলমান রয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। ইতিমধ্যে প্রতিটি মণ্ডপে একটন করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে
রুপসীবাংলা৭১/এআর

