নিজস্ব প্রতিনিধি: মাল্টিপল মায়েলোমা নামক রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৬৫ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্রী রাজীব রতন দে।
নিজস্ব প্রতিবেদ
সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এলো আরও এক শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন মাল্টিপল মায়েলোমা নামক রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী রাজীব রতন দে। গতকাল দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোলাজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।
কর্মজীবনে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ছিল সক্রিয় সম্পৃক্ততা। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ভোলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমী, উদীচি শিল্পগোষ্ঠী সহ
ভারতীয় হাইকমিশন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের কর্মকর্তা সৌনক ঘোষ। তিনি প্রয়াত রাজীব রতন দের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
দীর্ঘ অসুস্থতার সময়ে বাবাকে সুস্থ করে তোলার জন্য তাঁর দুই সন্তান শুদ্ধ ও ঋষা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু চিকিৎসক ও স্বজনদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
তাঁর প্রয়াণে ভোলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। একজন শিক্ষক, সংগীতপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্ম, স্মৃতি এবং রেখে যাওয়া গানের মধ্য দিয়ে।
জীবনের অবসান ঘটলেও থেমে থাকবে না তাঁর কণ্ঠের অনুরণন। তাঁর গাওয়া গানেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বেঁচে থাকবেন রাজীব রতন দে।
“প্রয়াণকালে একবার আসি ও তুমি—
হয়তো তোমার উষ্ণ আলিঙ্গনে,
আমার শীতল দেহে জেগেছিল হৃদস্পন্দন।”


