বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারাল মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী অংশগ্রহণকারী অগ্নিকন্যা এবং শিল্পাঙ্গনের একজন গুণী মানুষকে।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সুফিয়া কামালের কনিষ্ঠ কন্যা এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালের ছোট বোন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর ১ জন সন্তান (একটি মাত্র মেয়ে) রয়েছে। তিনি তাঁর একমাত্র মেয়েকে রেখে গেছেন, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঈদা কামাল টুলুর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধের এলাকায় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তাঁর এই মানবিক অবদান ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সর্বাধিনায়কের বিশেষ প্রশংসাপত্র’ লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের পাশাপাশি চিত্রশিল্পী হিসেবেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শিল্পশিক্ষা গ্রহণের পর ভারতের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে নকশাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর শিল্পকর্ম দেশে-বিদেশে বিভিন্ন একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। সৃজনশীল শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের চারুশিল্পের জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
সাঈদা কামাল টুলুর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—দেশপ্রেম শুধু যুদ্ধের ময়দানে সাহসিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সেবা, মানবিক দায়িত্ববোধ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েও দেশ ও সমাজের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে।
সুফিয়া কামালের ৬ সন্তান যথাক্রমে আমেনা খাতুন (দুলু, সুলতানা কামাল (লুলু): প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলু, শাহেদ কামাল: সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, সাজেদ কামাল: লেখক ও শিক্ষাবিদ ও শোয়েব কামাল (যিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় নিখোঁজ হন) ৬ সন্তানের মধ্যে ৩জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তাঁর প্রয়াণে পরিবার-পরিজন, স্বজন, সহযোদ্ধা, শিল্পীসমাজ এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা সৃষ্টিকর্তা অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন সবাইকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান, মানবিকতা ও শিল্পকর্মের স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুক।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী গৌতম কুমার এদবর


