ছন্দ সেন চাকমাঃ শরতের নীল আকাশ আর শান্ত জলের বুকে ডানা মেলেছে শুভ্র কাশফুল। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় আর জলাভূমির মায়াবী টানে প্রকৃতিপ্রেমীরা যেখানে বারবার ছুটে যান, তেমনই এক অনবদ্য সৌন্দর্যের ক্যানভাস এখন রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কেংড়াছড়ি (কেরংছড়ি) ইউনিয়ন।
হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (HDRC)-এর পরিচালনাধীন ‘PRLC প্রজেক্ট’-এর শেষ ধাপের মূল্যায়নে (Endline Evaluation of PRLC Project) এনিউমারেটর হিসেবে বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকায় তথ্য সংগ্রহের কাজে দায়িত্ব পালন করছেন ছন্দ সেন চাকমা। মাঠপর্যায়ের এই কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজের ফাঁকেই তিনি সাক্ষী হলেন শরতের এক অপরূপ সৌন্দর্যের।
কাজের ক্লান্তি মেটায় শুভ্রতার স্পর্শ
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর দুর্গম ছড়া পার হয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ মোটেও সহজ নয়। তবে কেংড়াছড়ির ছড়ার ধার ঘেঁষে হেঁটে যাওয়ার সময় চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য যেন নিমেষেই সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। ছড়ার শান্ত জলে আকাশের নীল আর কূলে ফুটে থাকা দুধসাদা কাশফুলের দোলা এক অপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি করে।গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি প্রকৃতিকে এমন নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করা এবং ক্যামেরাবন্দি করা ছন্দ সেন চাকমার মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ মাঠকর্মীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও প্রেরণার বিষয়।
পাহাড়, জল আর শুভ্রতার মেলবন্ধন
শরতের এই সময়ে পাহাড়ের রূপ বদলে যায় একদম অন্যরকমভাবে। কেংড়াছড়ির চারপাশের সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলাধারের তীরে সাদা কাশফুলের সমারোহ রূপকথার দৃশ্যের মতো মনে হয়। জলাধারের শান্ত জলে যখন কাশফুলের সাদা নদীর মতো ছায়া পড়ে, তখন মনে হয় পাহাড় আর জল যেন শুভ্রতাকে নিজেদের আয়নায় বন্দি করে রেখেছে।নৌকায় করে শান্ত জলাধারের ওপর দিয়ে ধীরগতিতে যাওয়ার সময় দু’পাশের ঘন সবুজ গাছপালা আর কূল ঘেঁষে ফুটে থাকা কাশবনের সৌন্দর্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
কঠিন মেহনতের মাঝে স্নিগ্ধ প্রশান্তি
এইচডিআরসি (HDRC)-র গবেষক ও এনিউমারেটরদের নিষ্ঠাপূর্ণ কাজের মধ্য দিয়েই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক মানুষ ও তাদের জীবনের সঠিক চিত্র উঠে আসে। ছন্দ সেন চাকমার এই সরেজমিন অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল কাজ যেমন গবেষণা প্রকল্পের সফলতা আনবে, তেমনি প্রকৃতির এই রূপময় মুহূর্তগুলো পাহাড়ি জনপদের সৌন্দর্যকে এক নতুন আলোয় তুলে ধরেছে।

