রুপসীবাংলা৭১ বিনোদন ডেস্ক : ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনকারীদের মুখোশ উন্মোচন এবং বিচার দাবি করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, “নির্যাতনকারীদের বিচার না হলে ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার অংশ নিয়ে শাম্মী আক্তার এ দাবি জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
শাম্মী আক্তার বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেছিলেন এখনো যদি এক্সরে করা হয় দেখা যাবে তার মেরুদণ্ডের হাড়টি বাঁকা হয়ে জোড়া লেগেছে। তিনি (তারেক রহমান) বলেছেন, তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না, তিনি প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, এটি থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চান।”
“এটি অবশ্যই একটি দেশের জন্য, রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক।”
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “প্রতিশোধ না মানে কিন্তু বিচারহীনতা নয়। আমরা চাই ১/১১-এর সরকারের সময়ে তার ওপরে যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে, এই ঘটনার মুখোশ উন্মোচন করা হোক এবং এই ঘটনার বিচার দাবি করছি। বিচার যদি না হয় তাহলে পরবর্তীতে এই ঘটনা আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।”
বাজেট প্রসঙ্গে শাম্মী আক্তার বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন শিল্প নীতির ক্ষেত্রেও এই বাজেট সময়োপযোগী। সোলার ইনভার্টার, সোলার মডিউল, লিথিয়াম ব্যাটারি, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এবং ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, আমরা শুধু আজকের জ্বালানি চাহিদা নয়, আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের কথাও ভাবছি। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের জন্য এই ধরনের কৌশল অপরিহার্য।”
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ বাজেটের টেবিল দেখে না, মানুষ বাজারে যায়। তাই বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উৎপাদন ব্যয় কমানো।”
শাম্মী আক্তার বলেন, “কৃষি খাতে সার, বীজ, সেচ এবং যান্ত্রিকীকরণে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জিংক অ্যাশ-এর ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিশ ফিডের তিনটি নতুন কাঁচামালে শুল্ক এবং পোল্ট্রি যন্ত্রপাতির পাঁচটি প্রয়োজনীয় উপকরণের শুল্ক শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সমস্ত পদক্ষেপ উৎপাদন খরচ কমাবে। উৎপাদন খরচ কমলে সরবরাহ বাড়ে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে চাপ কমে। এটাই হচ্ছে মূল্যস্ফীতি কমানোর বাস্তব পথ।”
তিনি বলেন, “বিরোধীদলের বন্ধুরা যারা বলেন সরকারের হাতে কি আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ আছে কিনা, আমি বলতে চাই সরকারের আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগের চিন্তা না করে আসুন আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আসুন আপনারা আমরা সকলে মিলে এই বাজেট বাস্তবায়ন করি, যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এই দেশের জনগণের জন্য, এই দেশের কল্যাণের জন্য, এই দেশের সমৃদ্ধির জন্য। আসুন সকলে মিলে সেই বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করি। এটি আমি বলতে চাই।”
রুপসীবাংলা৭১/এআর

