রুপসীবাংলা৭১ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অটুট রয়েছে অনেক সমর্থকের। বিশেষ করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান অঙ্গরাজ্য কলোরাডোর গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বহু ভোটার বলছেন, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি ঠেকাতে হলে উচ্চ জ্বালানি মূল্যও মেনে নিতে তারা প্রস্তুত।
এই অঙ্গরাজ্যের কৃষিপ্রধান শহর উইগিন্সে একটি মদের দোকানে কাজ করেন অ্যামি ভ্যান ডুইন। গ্যাসোলিনের উচ্চমূল্যের বিষয়ে তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আগে ৩৬ ডলারে পুরো ট্যাংক ভর্তি করা যেত, এখন সেই টাকায় অর্ধেকও হয় না।’
বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ৪ দশমিক ৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। যা ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
অ্যামি ভ্যান ডুইনের সহকর্মী টোনিয়াহ ব্রুয়েট বলেন, ‘মুদিপণ্য কেনার সময় মনে হয় সব টাকা কোথায় গেল। এখন দেখি সব টাকা যাচ্ছে গাড়ির ট্যাংকে।’
তবু তারা দুজনই ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প আশপাশের মর্গান কাউন্টিতে ৪৯ শতাংশের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন।
অবশ্য জাতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জ্বালানির দাম গড়ে গ্যালনপ্রতি সাড়ে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এ অবস্থায় রয়টার্স বা ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক উচ্চ গ্যাসের দামের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।
তবে সম্প্রতি সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যেতে না দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে ডেমোক্র্যাটরা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, প্রশাসন সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মে মাসের এক জরিপে অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন নেমে আসে ৩০ শতাংশে।
তবে কলোরাডোর গ্রামীণ এলাকায় রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অনেকেই ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।
মর্গান ও ওয়েল্ড কাউন্টির বাসিন্দারা বলছেন, ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়া থেকে ঠেকাতে অতিরিক্ত খরচও মেনে নেওয়া যায়।
প্রসপেক্ট ভ্যালির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জিম মিলার বলেন, ‘আমি অন্য সবার মতোই কষ্ট করছি। কিন্তু কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছি। মানুষের এই ত্যাগের মানসিকতা এখন হারিয়ে গেছে।’
রগেন এলাকার শস্য ব্যবসায়ী মাইক আরবানোভিজ বলেন, ‘জ্বালানির দাম তার ব্যবসায় চাপ তৈরি করছে।’
তবু তিনি মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতিই ভালো। তার ভাষায়, ‘আমি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছি, কারণ বিকল্পটা আরও খারাপ।’
ফোর্ট মর্গানের ২২ বছর বয়সী লেক্সিস সিব্র্যান্ডস একসময় নিজেকে ডেমোক্র্যাট ভাবতেন। তবে এখন রিপাবলিকান সমর্থক। তিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত ‘অবশ্যম্ভাবী’ ছিল।
তার মা জিল সিব্র্যান্ডস বলেন, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধি আমিও ঘৃণা করি। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে আরও বেশি ভয় পাই।’
ট্রাম্পের প্রতি আস্থা নড়বড়ে হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না। আমি পুরোপুরি তার পক্ষেই আছি।’
রুপসীবাংলা৭১/এআর

