রুপসীবাংলা৭১ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিক্ষিপ্ত সহিংসতা ও জাল ভোটের অভিযোগের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার রাজ্যের সাত জেলার ১৪২ আসনে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় এ ভোট শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। এ সময়ে ভোট পড়ে ৯১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়েছেন তিন কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি মানুষ। ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে এক হাজার ৪৪৮ প্রার্থীর। এর মধ্যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতের কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু অধিকারীসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা ছিলেন। পাশাপাশি ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে বাম ফ্রন্ট, কংগ্রেস, আইএসএফ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের।
দক্ষিণ কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ ভোট দেন ভবানীপুর আসনের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় আঙুল তুলে জয়ের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলই জিতছে। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাব।’
কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফের দিকে আঙুল তুলে মমতা বলেন, ‘তাদের দায়িত্ব সীমান্ত রক্ষার। তার পরিবর্তে তারা এখানে এসে একটা রাজনৈতিক দলকে সুরক্ষা দিচ্ছে। আমি দুঃখিত! এ ধরনের পরিস্থিতি আমি কোনো দিন দেখিনি। আমি সেই ১৯৮৪ সাল থেকে নির্বাচনে লড়াই করছি। কিন্তু এমন অত্যাচার হচ্ছে; আমার পাড়ার নারীদের ফেলে মেরেছে।’
মমতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভুয়া ভোট দেওয়ায় সহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী গুন্ডাগিরি করছে ও ভুয়া ভোটে সাহায্য করছে। তবে অভিযোগ নাকচ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী কখনোই ভুয়া ভোট দেয়নি।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কলকাতা শহরে ৮০ শতাংশ ভোট পড়ার অর্থ হলো, এটি পরিবর্তনের পক্ষে ঘটেছে। তৃণমূলের হার নিশ্চিত। কলকাতায় কখনও ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে না।’
বালি বিধানসভা আসনের একটি কেন্দ্রে ইভিএম খারাপ হওয়ায় ভোটাররা উত্তেজিত হন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ ও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। নদীয়ার শান্তিপুর বিধানসভার ২২১ নম্বর বুথে বিজেপির ক্যাম্প রাতের অন্ধকারে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বীজপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে তৃণমূল কাউন্সিলর কল্যাণ কর আহত হন। ওই কেন্দ্র থেকে দুজন ভুয়া ভোটারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম বিধানসভার বিরুরি গ্রামের ৩৫ নম্বর বুথের কাছ থেকে ছয়টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। ভবানীপুর আসনে ২১৭ নম্বর ও ২১৮ নম্বর বুথে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে ওই আসনের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী গেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
সাতগাছিয়া আসনের ১১৬ নম্বর বুথে ভিড় সরানোর জন্য লাঠিচার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ সময় এক শিশু আহত হয়। ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ান সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী লাভলী মৈত্র। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাভূষণ বিদ্যাপীঠের ১৪৩ নম্বর বুথে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। তারা ভোট দিতে পারেননি। কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বলেন, একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ভোটিং মেশিন টেম্পারিংয়ের অভিযোগ এসেছে।
বুথফেরত চারটি জরিপে বিজেপির জয়ের আভাস
বুথফেরত জরিপ বলছে, বিজেপি সফল হতে পারে। এনডিটিভি জানায়, ছয়টি জরিপ সংস্থা এরই মধ্যে তাদের সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চারটি সংস্থার সমীক্ষাই রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে টপকে প্রথমবারের মতো বিজেপিকে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
‘জনমত পোল’ সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, তৃণমূল ১৯৫ থেকে ২০৫টির মতো আসন পাবে। আর বিজেপি পাবে ৮০ থেকে ৯০ আসন। জরিপ সংস্থা ‘পিপলস পালস’ ও তৃণমূলের জন্য ১৭৭ থেকে ১৭৮টি আসন এবং বিজেপি ৮৫ থেকে ১১০ আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির বড় জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে ‘প্রজা পোল’ জরিপ সংস্থা। তারা বিজেপিকে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসনের মধ্যে জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস এই পোলের তথ্যানুযায়ী, ৮৫ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে। পি-মার্কের সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৫০-১৭৫টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। আর তৃণমূল ১১৮-১৩৮টি আসন পেতে পারে বলা হয়েছে। ম্যাট্রিজের জরিপে বিজেপি ১৪৬-১৬১ আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আর ‘পোল ডায়েরি’-এর সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ১৪২-১৭১টি আসন। চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিজেপি পেতে পারে ১৫০-১৬০ আসন এবং তৃণমূল পেতে পারে ১৩০-১৪০ আসন। ২৯৪ আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদু সংখ্যা ১৪৮।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

