এত সহজে তুমি আমায় ভুলে যাবে—
এ কথা ভেবে আজও বুকের ভেতর
কিছু একটা ভেঙে যায়।
মানুষ কি সত্যিই এত সহজে
একটা মানুষকে
নিজের ভেতর থেকে মুছে ফেলতে পারে?
আমি পারিনি, নীলাঞ্জনা।
আজও পারিনি।
চোখ বন্ধ করলেই
তুমি ফিরে আসো—
কখনো হাসি নিয়ে,
কখনো নীরব অভিমানে।
মনে হয়, তুমি ঠিক আমার পাশেই বসে আছো,
কিছু বলবে বলবে করেও
কিছুই বলছো না।
হৃদয়ের গভীরে এখনো
জমে আছে আমাদের দিনগুলো—
হালকা বৃষ্টিতে ভেজা বিকেল,
নিঃশব্দে হাত ধরে থাকা,
আর সেই সব কথা
যেগুলো বলা হয়নি
কিন্তু বোঝা গিয়েছিল।
আমি আজও স্বপ্নে তোমাকেই খুঁজি।
রাত গভীর হলে
তোমার নামটাই আগে মনে পড়ে।
তখন মনে হয়,
হয়তো তুমি এখনো কোথাও
আমার কথাই ভাবছো।
কিন্তু ভোরের আলো
সব ভেঙে দেয়।
চোখ খুললেই বুঝি—
পাশে কেউ নেই।
আমি শুধু একাই ছিলাম,
তোমার স্মৃতির ভেতর ডুবে।
ভাবতে পারিনি,
এইভাবেই তুমি আমায় ভুলে যাবে।
কোনো অভিযোগ নেই, নীলাঞ্জনা,
শুধু একরাশ ক্লান্ত প্রশ্ন।
ভালোবাসা কি সত্যিই
সময়ের সঙ্গে ফুরিয়ে যায়?
তোমাকে দোষ দিই কী করে?
হয়তো দোষ আমারই ভাগ্যের।
আমার কপালে লেখা ছিল
ভালোবাসা পাওয়া নয়,
ভালোবাসা বয়ে বেড়ানো।
ওগো নীলাঞ্জনা,
একবারও কি আমার কথা
তোমার মনে পড়ে না?
ভীড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে,
হঠাৎ কোনো গান শুনে,
অথবা গভীর রাতে
নীরবতার ভেতর?
তোমার আকাশ আজ
হাজার তারায় ভরা।
তুমি আলোয় হাঁটো,
স্বপ্নে ভর করে বাঁচো।
আর আমি—
সেই আকাশের নিচে
নীরবে পড়ে থাকা
একটিমাত্র ধূলিকণা।
কিন্তু জানো,
এই ধূলিকণারও একটা গল্প আছে।
ভালোবাসার গল্প,
হারিয়ে যাওয়ার গল্প,
আর আজীবন না-ভোলার গল্প।
তুমি ভুলে যেতে পেরেছো,
আমি পারিনি।
তাই আজও তোমার নামটা
বুকে রেখে হেঁটে চলি—
নিঃশব্দে,
কোনো অভিযোগ ছাড়াই।


