নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
আমরা লক্ষ্য করলাম যে গতকাল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন, আসন সংখ্যা এক- তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ করার জন্য নারী আন্দোলনের যে দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো তা উপেক্ষা করে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো। সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বাতিল না করে সেই একই নিয়মে রাজনৈতিক দলগুলোার মনোনয়নের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশের নারী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহিতা ও সংসদে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনসহ নারী আসন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই দাবি উপেক্ষা করে আবারও পরোক্ষ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথকে দুর্বল করে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে জাতীয় সংসদে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্যের উপস্থিতি নারী সমাজের স্বার্থ ও মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা তৈরী করবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিধান থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যথাযথ নারী প্রতিনিধিত্ব হয় নি। নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা না থাকায় এবং জনগনের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণ ও নারী প্রতিনিধিদের কাছে তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকে না। এই কারণে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরসরি নির্বাচনের দাবী জানিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অবিলম্বে এই তফসিল পুনর্বিবেচনার আহŸান জানাচ্ছে এবং সংবিধানের সপ্তদশ সংশোনী বাতিল করে নারী আসন ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।

