নিজস্ব প্রতিনিধি //
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক অস্থিরতা বিরাজ করছে বন্দর নগরীর এই বাজারটিতে। ফলে ভোজ্য তেল, চিনি, গমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি- আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বুকিং রেট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সেখানে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মূল্য বৃদ্ধির এ হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সুখবর হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল আমদানির অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ইরান অনুমতি দিয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব নিঃসন্দেহে বাজারে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসম্পাদক ও আমদানিকারক রেজাউল কবির আজাদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের বুকিং রেট বেড়েছে। একই যুদ্ধের কারণে আমদানি খরচও বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের কিছু কিছু পণ্যে। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাজার পরিস্থিতি সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’ চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন বলেন, খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কোনো সংকট নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। যুদ্ধের কারণে পরিবহন খরচ, জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বিমা খরচ বেড়েছে। যার প্রভাবে গত কয়েক দিনে কিছু পণ্যের দাম মণপ্রতি দেড় থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গে অস্থির হয়ে ওঠে দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পামঅয়েল, সয়াবিন তেল, চিনি, গম ও বিভিন্ন শুকনো খাদ্যপণ্যের দাম মণে বেড়েছে দেড় থেকে ২০০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে লিটারপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাম অয়েলের দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি দামের এ পরিবর্তন দ্রুত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে। যেখানে ইতোমধ্যে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে। চিনি, গম ও ডালের বাজারে মণপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বেড়েছে নানান ধরনের শুকনো খাবারের দামও। বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধজনিত আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান তৈরি হয়েছে। এর ফলে পণ্য মজুত বাড়ানো, বিক্রি সীমিত রাখা এবং আগাম মূল্য সমন্বয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী ভোগ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। আবার পরিবহন খরচ, জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বিমা খরচ বেড়েছে বাংলাদেশের মতো শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোর। এর ফলে খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে।

