নিজস্ব প্রতিনিধি //
দীর্ঘ দেড় বৎসর পর ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলো। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার ম্যান্ডেট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। কিন্তু আমরা গভীর ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করলাম যে, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের একটি অংশ দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে নিজ নিজ আসনে বসে থেকে জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করেছেন। সমগ্র জাতি এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
জাতীয় সংগীত আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদার অন্যতম প্রধান প্রতীক। জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সামষ্টিক পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি মৌলিক প্রকাশ।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জাতীয় মর্যাদার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জাতীয় সংগীতকে ঘিরে জনপ্রতিনিধিদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সমগ্র জাতির স্বাধীনতার চেতনা ও মর্যাদাবোধের উপর আঘাত হেনেছে এবং দেশের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতা ও দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ভবিষ্যতে জাতীয় সংগীত ও অন্যান্য জাতীয় প্রতীকের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের জাতীয় মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এ ধরনের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর সকল ধরণের আচরণ থেকে বিরত থাকার দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানায়।

