রুপসীবাংলা৭১ প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন। আল্লাহর কাছে রহমত চাইবেন। যাতে সারা দেশে ধানের শীষ জয়যুক্ত হতে পারে। অন্যান্য ধর্মের ভাইয়েরাও ভোরবেলা তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন।
এরপর মুসলমান ভাইয়েরা ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াবেন। ভোট শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়া শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে এলে চলবে না। কেন্দ্রে থাকতে হবে।
কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে।
তিনি বলেন, কেন এই কথা বললাম। কারণ বহু বছর হয়ে গেছে, আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এর আগে আমাদের ভাট বিভিন্নভাবে বিভিন্নজন লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এবার সেই জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করে নিয়ে যেতে না পারে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মঞ্চে ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা।
ছিলেন ৪ জেলার নেতা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারেক রহমান বলেন, আমরা জানি নেত্রকোনা, শেরপুরসহ, বিভিন্ন স্থানে মাদক সমস্যা আছে। আমরা এ মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে কিভাবে করবেন। মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে, আমাদেরকে সেই তরুণদেরকে, সেই যুবকদের, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ-কর্ম থাকবে, চাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য কম-বেশি থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মাঝে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমরা দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করব। যাতে আমরা আমাদের তরুণ সদস্যদের, যুব সমাজের সদস্যদেরকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব। যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একইভাবে তারা দেশের মাঝে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি। যারা আইটিতে কাজ করেন, তারা ঘরে তাদের আয়-রোজগার বাড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, এই ৪ জেলার আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলা হাসপাতালগুলোকে আরো বড় করতে চাই, একইভাবে হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থা করতে চাই। শিশুরা এবং মা-বোনেরা চিকিৎসার জন্য অনেক সময় হাসপাতালে যেতে পারে না। আমরা চাই তার যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে। সেজন্যই আমরা চিকিৎসা ব্যব্স্থাকে উন্নত করতে চাই। আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘরের দ্বারে পৌঁছে দিতে চাই।
তিনি বলেন, এ ময়মনসিংহ জেলা অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা। আমাদের এখানে অনেক খাল-বিল ছিল। এ খাল বিলগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ খাল-বিলগুলো আমরা পুনর্খনন করতে চাই। এ খাল খনন করার জন্য কে কে কোদাল হাতে নেবেন। আমি সেদিন আপনাদের সঙ্গে থাকব। যে কথাগুলো বললাম, এই কাজগুলো যাতে আমরা কম-বেশি করতে সক্ষম হই, ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে, এই যে কথাগুলো বললাম, এই কাজগুলো যদি করা হয়, আপনারা কি মনে করেন আপনারাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবে। উপস্থিত লোকজন তখন হ্যাঁ মন্তব্য করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কি কি করবে তা সংক্ষেপে বললাম। বিএনপি আরো অনেক কিছু করবে। তবে এর আগে ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।
এ সময় তিনি ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এদিকে জনসভা উপলক্ষে সার্কিট হাউস মাঠে নেমেছিল নেতাকর্মী-সমর্থকদের ঢল। আশপাশের জেলা থেকে রাতেই নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে এসে পড়েন। অনেকে রাতেই মাঠেই অবস্থান করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে মাঠে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে ট্রেন-বাস-নৌকা করে সার্কিট হাউস মাঠে জড়ো হন অনেকে।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

