রুপসীবাংলা৭১ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : শনি গ্রহের ছোট উপগ্রহ মিমাস নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। বরফের মোটা স্তর দেখে উপগ্রহটি মৃত মনে হলেও, গবেষকদের মতে এর ভেতরে বরফের নিচে লুকানো এক সাগর থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস (UC Davis)-এর গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
গবেষণা বলছে, মিমাসের আচরণ (ঘূর্ণনের সময় হালকা দুলুনি) দেখে ধারণা করা যায়, বরফস্তরের নিচে তরল পানি থাকতে পারে। আমাদের সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর চারপাশে বেশ কিছু বরফঢাকা উপগ্রহ রয়েছে। এদের কিছুতে যেমন শনি গ্রহের এনসেলাডাস—বরফের নিচে সাগর পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব সাগর ভবিষ্যতে ভিনগ্রহের প্রাণ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাব্য স্থান হতে পারে।
UC Davis–এর দলটি জানতে চেয়েছে, বরফের নিচে কীভাবে সাগর তৈরি হয়, কীভাবে তা আচরণ করে এবং কোন ক্ষেত্রে পানি ফুটে উঠতে পারে। তারা বলছেন, বড় গ্রহের টান (tidal forces—মাধ্যাকর্ষণজনিত টান) বরফকে কখনও গরম করে গলিয়ে ফেলে, আবার কখনও ঠান্ডা করে আরও মোটা করে তোলে। আগে জানা ছিল, বরফ মোটা হলে তা ভেতর থেকে চাপ সৃষ্টি করে উপগ্রহের পৃষ্ঠকে বদলে দেয়। এবার গবেষকেরা দেখেছেন, বরফ নিচ থেকে গলতে থাকলে ভেতরের সাগর ফুটতে শুরু করতে পারে।
মিমাস ছোট উপগ্রহ—প্রায় ২৫০ মাইল চওড়া। আকার ছোট হওয়ায় ভেতরের চাপ খুব কম থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বরফের নিচের পানি একসঙ্গে তরল, কঠিন ও বাষ্পে রূপ নিতে পারে (একেই বলে ট্রিপল স্টেট), আর সেখান থেকেই পানি ফুটতে পারে।
এনসেলাডাস বা ইউরেনাসের উপগ্রহ মিরান্ডা–তেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। মিরান্ডায় যেসব পাথুরে উঁচু-নিচু গঠন দেখা যায়, সেগুলো ফুটন্ত সাগরের চাপ থেকেই তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে বড় বরফঢাকা উপগ্রহে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে বরফ পাতলা হলে তা ভেঙে যেতে পারে। ফলে পানি ফুটে ওঠার আগেই বরফের স্তর ভেঙে যায়। তাই বড় উপগ্রহে ফুটন্ত সাগর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
গবেষক ম্যাক্স রুডলফ বলেন, এসব গবেষণার লক্ষ্য হলো বরফের নিচে লুকানো সাগরসমৃদ্ধ উপগ্রহগুলো কোটি বছরের ব্যবধানে কীভাবে বদলায়, আর বাইরে থেকে সেগুলো দেখতে কেমন হতে পারে—তা বোঝা।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

