রুপসীবাংলা ৭১: সংবিধানে স্বীকৃত সমতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জীবনের অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান দিবসের আলোচনা সভার বক্তারা।
আজ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে “সংবিধানের ৫৪ বছর: অধিকার ও সুরক্ষা: অর্জন ও বাস্তবতা” শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), সুপ্রীম কোর্ট ল’ইয়ার্স গিল্ড ও বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন। আলোচকদের মূল বক্তব্যসমূহ:সারা হোসেন (সঞ্চালক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, ব্লাস্ট): সংবিধানের অর্জনগুলো স্বীকার করার পাশাপাশি এর প্রয়োগের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
আহমেদ জাভেদ (প্রতিষ্ঠাতা, বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন): ক্ষমতাবানদের মতো সাধারণ মানুষও বিচারব্যবস্থার সমান সুযোগ পাচ্ছেন কি না এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বাইরে কারা থেকে যাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তোলেন।নুরুন্নাহার ঊর্মি (প্রভাষক, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি): সমতার সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মানুষের ভিন্ন সামাজিক অবস্থান ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করার পাশাপাশি নারী ও আদিবাসীদের কার্যকর সমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।এম এম খালেকুজ্জামান (আইনজীবী, সুপ্রীম কোর্ট): গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় সাংবিধানিক সুরক্ষার কার্যকর প্রয়োগ ও সংস্কার দাবি করেন।
প্রিয়া আহসান চৌধুরী (আইনজীবী, সুপ্রীম কোর্ট): মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঔপনিবেশিক আমলসহ বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা ও সংস্কারের আহ্বান জানান, যাতে আইনের প্রয়োগ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়।বারীশ হাসান চৌধুরী (পরিবেশ অধিকারকর্মী ও গবেষক): পরিবেশ সুরক্ষাকে জীবনের অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রবীর নিয়োগী (জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রীম কোর্ট): ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অত্যন্ত প্রগতিশীল উল্লেখ করে বলেন, মূল সংকট হলো এর যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পটভূমি জানা এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর তিনি জোর দেন।
বিচারপতি বোরহান উদ্দিন (আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি): বহু সংশোধনের পরও সংবিধানের টিকে থাকাকে একটি অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্যাতন নিষিদ্ধ থাকার পরও বাস্তবে এই সুরক্ষা কতটা মানা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁর মানবিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়া যায় না।
খন্দকার শাহরিয়ার শাকির: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও রায় বাস্তবায়নে সরকারকে একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং সরকারের সমালোচনার কারণে কেউ যেন মামলা বা গ্রেপ্তারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

