নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বমানের কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যা নিরসনে উচ্চশিক্ষাসহ সর্বস্তরে কর্মমুখী, কারিগরি ও কৌশলগত শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। তিনি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেন।

আজ বঙ্গভবনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর জন প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার শাফায়াত মোহাম্মদ রাজু, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারপারসন আবুল খায়ের চৌধুরী।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করে। তারা জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি জেসাপ আন্তর্জাতিক কোর্ট প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ রাউন্ডে ২০২৬ সালসহ পরপর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য এ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধিদল। মেধা বিকাশ, আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হয়।
রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানায় এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

